Bellingham vs Barco
Bengal Liberty
গতকালের আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড(Bellingham vs Barco) ম্যাচটি কোনো যুদ্ধের চেয়ে কম ছিল না। দুই দলের ফুটবলাররা একে অপরের দিকে বারবার তেড়ে আসছিলেন; প্রথমার্ধের খেলা তো রীতিমতো কুস্তির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। ৬০ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখছিল থ্রি লায়ন্সরা। কিন্তু দলটির নাম যখন আর্জেন্টিনা, পিছিয়ে থেকে বহুবার জয় ছিনিয়ে নেওয়ার ইতিহাস তো তাদের আছেই। এই ম্যাচেও ঠিক তাই হলো। শেষ মুহূর্তে পরপর দুটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের দম্ভ চূর্ণ করে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছায় তারা। তবে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর থেকেই খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

বেলিংহাম বনাম বার্কো(Bellingham vs Barco)
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা চোখের সামনে উল্লাসে মেতে উঠলে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন ২৫ বছর বয়সী ইংরেজ তারকা জুড বেলিংহাম। আচমকাই তিনি চড়াও হন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ভ্যালেন্টিন বার্কোর ওপর।
অভিযোগ উঠেছে, তিনি পেছন থেকে এসে বার্কোর ঘাড়ে থাপ্পড় মারেন। প্রত্যাশিতভাবেই এর তীব্র প্রতিবাদ জানান বার্কোর সতীর্থরা। মাঠে দুই দলের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। অবশ্য এই অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য বেলিংহাম বা অন্য কোনো ফুটবলারকে এখনও শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি।

মাঠের আঁচ ছড়ালো গ্যালারিতে(Bellingham vs Barco)
মাঠের সেই উত্তেজনার আঁচ ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতেও। দুই দেশের সমর্থকরা রীতিমতো হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ম্যাচের পর স্টেডিয়াম ও স্টেডিয়ামের বাইরে দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় মারামারি হয়। মূলত খেলার মাঝপথ থেকেই গ্যালারি উত্তপ্ত হতে শুরু করেছিল। চলছিল তুমুল কথা-কাটাকাটি। এমনকি ইংল্যান্ডের জাতীয় সংগীতের সময় অহেতুক হইচই ও চিৎকার করে বিব্রত করার অভিযোগ ওঠে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

ম্যাচ শেষ হতেই সেই উত্তেজনা রূপ নেয় সহিংসতায়। স্টেডিয়াম এবং তার আশপাশের এলাকায় মারামারি শুরু হয়ে যায়। এতে বেশ কয়েকজন সমর্থক রক্তাক্ত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং দুই দেশের বেশ কয়েকজন সমর্থককে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়। জানা গেছে, শুধু আটলান্টা নয়—নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির মতো আমেরিকার বেশ কিছু শহরেও দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এমনকি ইংল্যান্ডের বার্মিংহামেও হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন দুই দলের সমর্থকেরা। ১৯৬৬, ১৯৮৬, ১৯৯৮-এর পর ২০২৬—যতবারই এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল মাঠে মুখোমুখি হয়েছে, ততবারই পরিস্থিতি হাতের বাইরে গেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। এই মাঠ ও মাঠের বাইরের সংঘর্ষের প্রভাব আগামী ম্যাচগুলোতে কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

