CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty : রথযাত্রার পবিত্র দিনে ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ থাকলেন না মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। কলকাতার অ্যালবার্ট রোডের ইসকন মন্দির থেকে তিনি তুলে ধরলেন স্কুলের মিড-ডে মিল প্রকল্পে ইসকনের ভূমিকা। পুষ্টিকর খাবার, স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিষেবার উপর জোর দিয়ে তিনি জানালেন, শিশুদের কল্যাণই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য (CM Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে সমাজসেবামূলক কাজে ইসকন-সহ বিভিন্ন আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের পক্ষেও সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “একটা ভাল, পুষ্টিকর আহার পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমরা ইসকন, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং মানুষের সেবায় নিয়োজিত অন্যান্য সংগঠনকে সঙ্গে নিয়েই বাংলার নবনির্মাণের পথে এগোতে চাই।”

রথের মঞ্চে মিড-ডে মিল নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট (CM Suvendu Adhikari)
রথযাত্রা উপলক্ষে কলকাতার অ্যালবার্ট রোডের ইসকন মন্দিরে উপস্থিত হয়ে রাধামাধবের বিগ্রহের সামনে আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হাত দিয়েই এ বছরের ইসকনের রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই তিনি রাজ্যের মিড-ডে মিল প্রকল্প নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকারের অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে অন্যতম ছিল সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিল প্রকল্পের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়া। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে ইসকনের খাদ্যতালিকায় ডিম না থাকায় পড়ুয়াদের পুষ্টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের একাংশের দাবি ছিল, ডিম বাদ গেলে শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি কীভাবে নিশ্চিত হবে।

‘দুর্নীতির কোনও স্থান নেই’ বললেন শুভেন্দু (CM Suvendu Adhikari)
এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং ইসকন যৌথভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করেছে। তাঁর মতে, দেশের বিভিন্ন বড় শহরে ইসকন বহু বছর ধরে সফলভাবে এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ পরিচালনা করছে। সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার পশ্চিমবঙ্গে কাজে লাগানো হবে। তাঁর কথায়, “একটা ভাল, পুষ্টিকর আহার পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমাদের স্কুলগুলিতে যে ছাত্রছাত্রীরা মিড-ডে মিল গ্রহণ করে, তারা মূলত মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তান। সচ্ছল পরিবারের শিশুদের অধিকাংশই এই প্রকল্পের উপর নির্ভর করে না। তাই অপুষ্টি দূর করতে পুষ্টিকর খাবারের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং স্বচ্ছভাবে তা বিতরণের উপর জোর দেন। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পে দুর্নীতির কোনও স্থান নেই। তাঁর কথায়, “গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে মিড-ডে মিল নিয়ে যে ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিশুদের খাবার নিয়ে অনিয়ম করা পাপের সমান। আগামী দিনে ইসকন এই দায়িত্ব পালন করে আমাদের শিশুদের কাছে উন্নত মানের পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেবে। সেটাই আমাদের কর্তব্য।”

সমাজকল্যাণে সব প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে চায় সরকার (CM Suvendu Adhikari)
শুধু ইসকন নয়, ভবিষ্যতে সমাজসেবামূলক কাজে আরও বিভিন্ন আধ্যাত্মিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার ইঙ্গিতও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রশাসনের কাজ শুধু সরকারি আধিকারিক বা জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সমাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতাকেও উন্নয়নের কাজে কাজে লাগাতে চায় রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, “আমরা ইসকন, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং মানুষের সেবায় নিয়োজিত অন্যান্য সংগঠনকে সঙ্গে নিয়েই বাংলার নবনির্মাণের পথে এগোতে চাই। সমাজের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
আরও পড়ুন :
Ayodhya Ram Mandir : রামমন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারিতে এবার SIT-এর নজরে কোষাধ্যক্ষ

