Terrorist Arrest
Bengal Liberty:
গুজরাতে ফের জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) যোগের অভিযোগে বড়সড় অভিযান চালাল এটিএস। রাজ্যের একাধিক এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে (Terrorist Arrest)। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে গোটা নেটওয়ার্কের খোঁজে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এটিএস। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি অভিযানের সময় ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়।
এটিএস সূত্রে খবর, ভারতে নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল। সেই উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক সংগ্রহের পাশাপাশি টাইম বোমা তৈরির প্রস্তুতিও চলছিল বলে অভিযোগ। ধৃতরা বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলেও দাবি তদন্তকারীদের। জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে এবং পাকিস্তান থেকে নির্দেশ আসার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। এমনকি পুরনো গাড়ি কেনার নির্দেশও পাকিস্তান থেকেই দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

নতুন সংগঠন দারুল ইসলাম Terrorist Arrest
তদন্তে আরও উঠে এসেছে ‘দারুল ইসলাম’ নামে একটি সংগঠনের নাম। অভিযোগ, ওই সংগঠনের আড়ালে সদস্য সংগ্রহ এবং নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজ চলছিল। এই সংগঠনকে ব্যবহার করেই জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তবে মাত্র সপ্তাহখানেক আগেই গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশে যৌথ অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেফতার করেছিল এটিএস। তদন্তকারীদের দাবি, তারাও জইশ-ই-মহম্মদের ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্য ছিল। অভিযোগ ওঠে, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে যুবকদের মগজধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত করার চেষ্টা এবং হামলার প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছিল।

নতুন করে আরও পাঁচজন গ্রেফতার হওয়ায় গুজরাতে জইশের ‘স্লিপার সেল’-এর ধৃত সদস্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩। তদন্তকারীদের মতে, রাজ্যে একটি বড় জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছিল, যার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শহরকে নিশানা করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটিএসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এখনও চলছে। তাঁদের মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যোগাযোগের উৎস এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা জানার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় হামলা, ২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ভারতীয় সংসদ হামলা, ২০১৬ সালের ২ জানুয়ারি পাঠানকোট এয়ারবেস হামলা, ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উরিতে হামলার মত কর্মকান্ড পূর্বেও ভারতবাসী অবগত হয়েছিল। ভবিষ্যতের কিছু ভয়ানক হামলার হাত থেকে রাখা পেল। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোটা ঘটনায় কড়া নজর রাখছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।

