Bengal Liberty:
বুধবার বিধানসভার অধিবেশন রাজ্যের প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের সাক্ষী থাকল। অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল সরকারের দীর্ঘদিনের পুলিশি ব্যর্থতা, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে যে, তৃণমূলের শাসনে পুলিশকে আইন রক্ষার পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে; যার ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ চরম প্রশ্নের মুখে।

থানাগুলোর বেহাল দশা Suvendu Adhikari
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যের বহু থানায় এখনও ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। কলকাতা পুলিশের বাইরে অধিকাংশ জেলায় আধুনিক পুলিশি ব্যবস্থা কার্যত অনুপস্থিত। তাঁর দাবি, ঘুষ ও রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়ায় পুলিশ ব্যবস্থার কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আধুনিক পুলিশিং মডেল Suvendu Adhikari
তিনি আরও বলেন, দেশের অন্যান্য রাজ্য—বিশেষ করে মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশের আধুনিক পুলিশিং মডেল অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গেও নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে। জরুরি পরিষেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে চালু করা হবে ‘১১২’ পরিষেবা। পাশাপাশি তোলাবাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য একাধিক হেল্পলাইন নম্বর এবং অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম তৈরির ঘোষণাও করেন তিনি। তাঁর কথায়, যেখানে প্রয়োজন সেখানে কঠোর তদন্ত চালিয়ে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা হবে।
স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া Suvendu Adhikari
পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৬ হাজার নতুন কনস্টেবল পুজোর আগেই কাজে যোগ দেবেন বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি, পুলিশ প্রশিক্ষণ ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ‘রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়’-এর সঙ্গে সরকারের চুক্তির কথাও তুলে ধরেন।
সাসপেন্ড কুণাল ঘোষ Suvendu Adhikari

এদিন বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের আচরণ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। প্রথমে তাঁকে পুরো অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করার প্রস্তাব উঠলেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপে স্পিকারের সিদ্ধান্তে কুণাল ঘোষকে শুধুমাত্র আজকের দিনের জন্যই বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা—তৃণমূলের আমলে ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশ প্রশাসনকে পুনর্গঠন করে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।

