Bengal Liberty:

শিক্ষার স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া আন্দোলনের পরিণতি যদি একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং থুথু ছিটানোর মতো নিন্দনীয় ঘটনা হয়—তবে সেই প্রতিবাদের নৈতিক ভিত্তি নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন ওঠে।
NEET Protest Kolkata

‘নিট’ (NEET) পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদে কলকাতায় ৮টি বাম সংগঠনের ডাকা মিছিলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ‘বেঙ্গল লিবার্টি’-র প্রতিনিধি রিয়া গিরির ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব হলো ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সঠিক তথ্য ও সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরা। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁকে “দালাল মিডিয়া” বলে হেনস্থা করা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা এবং গায়ে থুথু ছিটানোর মতো জঘন্য আচরণ কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।

গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর আর কত আঘাত?NEET Protest Kolkata
গণমাধ্যমকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। অথচ বারবার দেখা যাচ্ছে, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদেরই প্রতিনিয়ত হামলা, হেনস্থা ও হুমকির শিকার হতে হচ্ছে। যে আন্দোলন শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিচালিত হচ্ছে, সেই আন্দোলনের মঞ্চ থেকেই যদি একজন নারী সাংবাদিককে এভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়, তবে তা শিক্ষার প্রকৃত মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পুরোই পরিপন্থী।
NEET Protest Kolkata

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করা এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু কর্তব্যরত কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা বা হেনস্থার কোনো স্থান স্বাধীন সমাজে নেই। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সকলেরই নাগরিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

আরও পড়ুনঃ নিট আন্দোলনে ছাত্রদের পাশে মমতা, কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ

