Bengal Liberty : দশমীর রাতে মালদাতে এক বিজেপি কর্মীকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃতের নাম সমীর ঘোষ। অভিযোগ, বাড়িতে ঢুকে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানোর পাশাপাশি মৃত্যু নিশ্চিত করতে দুই রাউন্ড গুলিও চালায় দুষ্কৃতীরা। বিজেপি করার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি পরিবারের। এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবার। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছে তৃণমূল। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। খুনের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা
বুধবার দশমীর সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে মালদার ইংরেজবাজার থানার রামকেলি এলাকায়। অভিযোগ, এলাকার মানুষ যখন প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে ব্যস্ত, সেই সময় সমীর ঘোষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে কয়েকজন দুষ্কৃতী। এরপর তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। এমনকী, তাঁকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলিও চালানো হয় বলে অভিযোগ। মৃতের ভাইয়ের দাবি, বিজেপি করার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর দাদাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আতঙ্কে তিনি বাড়ি থেকে খুব একটা বেরোতেন না। দশমীর দিন এলাকা ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়েই দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার সময় সমীর বাড়িতে একাই ছিলেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই পরিকল্পনামাফিক তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি মৃতের ভাইয়ের। অভিযুক্তরা তৃণমূল আশ্রিত বলেও অভিযোগ তুলেছে পরিবার।
পালটা অভিযোগ তৃণমূলের
ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। খুনের কারণ কী, তার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, পরিবারের তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের পালটা দাবি, এই ঘটনার পিছনে বিজেপিরই হাত রয়েছে। সঠিক তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে, দাবি তাদের। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগের জেরে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সমীর ঘোষের খুনের প্রকৃত কারণ এবং অভিযুক্তদের পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়।


