Bengal Liberty : তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরদিনই ফের পুলিশি জেরার মুখে ককরোচ জনতা পার্টির তিন নেতা। বৃহস্পতিবার সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্ক শিন্দেকে তলব করেছে দিল্লি পুলিশের অপরাধদমন শাখা। যন্তর মন্তরে ঢুকে জাতীয় পতাকা ওড়ানো এবং স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া দু’টি এফআইআরের তদন্তভার এখন এই শাখার হাতে। সূত্রের খবর, ওই তিন নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। ফলে জামিনে মুক্তি পেলেও সিজেপি নেতাদের আইনি জটিলতা কাটল না।
দায়ের হয় দু’টি এফআইআর
সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরকে অনুমোদিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ওই নির্দেশের পর সেখানে জমায়েত ও বিক্ষোভ কর্মসূচির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে সিজেপির কয়েক জন কর্মী লোহার দরজা টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন। সেখানে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পাশাপাশি ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দেন তাঁরা। পুলিশ প্রথমে তাঁদের আটক করে। পরে সৌরভ ও আশুতোষকে গ্রেফতার করা হয়। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেখানে প্রবেশ এবং স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় দু’টি এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে শান্তি ভঙ্গের চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়।
সাত দিন তিহাড়ে কাটিয়ে জামিনে মুক্তি
ঘটনার পর প্রথমে অজিঙ্ক শিন্দে-সহ কয়েক জনকে আটক করে পরে ছেড়ে দেয় পুলিশ। তবে সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগেও শান্তি ভঙ্গ না করার মুচলেকা দিয়েছিলেন তাঁরা। তা সত্ত্বেও তাঁদের বিরুদ্ধে ফের একই ধরনের অভিযোগ ওঠে। স্পেশ্যাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রথমে তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন। পরে সেই মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়। সব মিলিয়ে সাত দিন তিহাড়ে থাকার পর বুধবার মুক্তি পান দু’জন। ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁদের জামিন মঞ্জুর হয়। তবে জামিন দেওয়ার সময় বিচারক স্পষ্ট করে দেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে। সেই সূত্রেই বৃহস্পতিবার রজৌরি গার্ডেনে দিল্লি পুলিশের অপরাধদমন শাখার দফতরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিন নেতাকে। আগামী শুক্রবার স্পেশ্যাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
আরও খবর
নতুন আন্দোলনের ইঙ্গিত সিজেপির
দুই নেতার জেলমুক্তির পর ফের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সিজেপি। দলের প্রধান অভিজীত দিপকে বুধবার রাতেই নতুন করে পথে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে জামিন পাওয়ার সময় আদালতে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সমস্ত প্রতিবাদ কর্মসূচি সাংবিধানিক কাঠামো মেনে এবং আইন অনুসারে করা হবে। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি যত দিন আইনত নিষিদ্ধ থাকবে, তত দিন সেখানে কোনও আন্দোলনের ডাক দেবেন না তাঁরা। ফলে নতুন করে আন্দোলনের পথে হাঁটলেও আইনি শর্ত মেনেই এগোতে হবে সিজেপিকে।


