Bengal Liberty : মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই কি ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান শুরু করতে চলেছে আমেরিকা? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলতে থাকা সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের পরেই সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও সম্ভাব্য অভিযানের নির্দিষ্ট সময় কিংবা লক্ষ্যবস্তু নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এর আগে একাধিকবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে না বলে গত ৮ অক্টোবর জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। তবে নির্বাচনের পর সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা যে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই ইঙ্গিতই আরও স্পষ্ট হয়েছে।
আরও খবর
সংঘাতের কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালী ও পরমাণু ইস্যু
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ঘিরে উত্তেজনা ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের বন্দরগুলির উপর মার্কিন অবরোধ বহাল রয়েছে। অন্যদিকে, সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনও স্থায়ী সমাধান অধরা।
সব মিলিয়ে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল। তবে নির্বাচনের পরেই হামলা চালানো হবে, এমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে আপাতত সামরিক হুঁশিয়ারির পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে, জনমত সমীক্ষায় পিছিয়ে থাকার পর ট্রাম্পের এই নয়া হুঁশিয়ারি কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার।


