Narendra Modi
Narendra Modi

বদলের বিশ্বে রাষ্ট্রপুঞ্জের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট মোদি

Bengal Liberty : বদলের বিশ্বে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে রাষ্ট্রপুঞ্জের সীমাবদ্ধতা। এমনটাই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার এনডিটিভি আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড সামিট’-এ অংশ নেন তিনি। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল। কিন্তু আজকের চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাদের সীমাবদ্ধতা এখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে’। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং নতুন রাষ্ট্রশক্তিগুলির উত্থান প্রতিদিন বৈশ্বিক প্রেক্ষপটকে বদলে দিচ্ছে। এই অবস্থায় নতুন সমাধান সূত্রের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন শক্তির উত্থান ঘটছে এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’ -এর কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হচ্ছে। কিন্তু এই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কোনও পরিবর্তন আসছে না’। পুরনো নিয়ম আঁকড়ে থাকার ফলে জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সঙ্কট মোকাবিলায় রাষ্ট্রপুঞ্জ ব্যর্থ হচ্ছে বলে শুক্রবার দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের পুনর্গঠনের মতো জরুরি কাজ দ্রুত শেষ করার কথাও বলেন। মোদী বলেন, “বিশ্ব বুঝতে পেরেছিল বৈশ্বিক ব্যবস্থা কেবল ক্ষমতা ও স্বার্থের ভিত্তিতে চলতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন সংলাপ, সহযোগিতা এবং বিরোধের নিষ্পত্তি। এই উপলব্ধি থেকেই রাষ্ট্রসংঘ স্থাপিত হয়। কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রসংঘ বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা ও শান্তি প্রসারে ভূমিকা পালন করেছিল।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী পরিবর্তিত হতে থাকে। নতুন আকাঙ্ক্ষা, নতুন অর্থনীতি এবং নতুন শক্তির উত্থান ঘটে। বিশ্বের সামনে উপস্থিত চ্যালেঞ্জগুলি আগের চেয়েও অনেক বেশি জটিল হয়ে ওঠে।” মোদী সরাসরি বলেন, “রাষ্ট্রসংঘ ও অন্যান্য বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। তবে বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোর মুখে তাদের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এখন নতুন শক্তির উত্থান ঘটছে, নতুন কণ্ঠস্বর নিজেদের জায়গা দাবি করছে এবং নতুন চ্যালেঞ্জগুলি নতুন সমাধানের দাবি জানাচ্ছে।” যোগ করেন, “পরিবর্তনশীল এই বিশ্বব্যবস্থা আরও শক্তিশালী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য আরও জোরালো কণ্ঠস্বর এবং সংকটকালে অটল আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দাবি তুলছে।” গত সপ্তাহেই বিরোধী দল ও তরুণ প্রজন্মের ‘ভোটচুরি’-আন্দোলনে পুলিশি দমনপীড়ন নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টের প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও

জমায়েতের অধিকার’ বিষয়ক বিশেষ দূত জিনা রোমেরো ওই রিপোর্ট পেশ করেছিলেন। তাতে বলা হয়েছিল, ভারতে যুবসমাজ যখন লিঙ্গভিত্তিক সমতা, ন্যায়বিচারের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা বা প্রতিবাদ করে, তখন তারা রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক স্তরে প্রতিহিংসা, দমনপীড়ন ও কলঙ্কলেপনের মুখোমুখি হয়। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুজ স্বরূপ চলতি সপ্তাহেই সেই রিপোর্ট খারিজ করেছেন। ঘটনাচক্রে, তার পরেই রাষ্ট্রপুঞ্জের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রী।রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুজ স্বরূপ চলতি সপ্তাহেই সেই রিপোর্ট খারিজ করেছেন। বুধবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ভারতের প্রতিনিধি, বিদেশ মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি বরখা তাম্রাকর জানান, মানবাধিকার প্রসঙ্গকে কোনও দেশের উপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার করা বা বেছে বেছে কিছু নির্দিষ্ট দেশকে নিশানার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। ঘটনাচক্রে, তার পরেই রাষ্ট্রপুঞ্জের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রী।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।