Bengal Liberty : সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৯ জন, যার মধ্যে ছিল এক শিশুও। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই সিল করে দেওয়া হয়েছিল গোটা মণ্ডপ। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে বারবার সেখানে পৌঁছেছেন ফরেনসিক দল, হোমিসাইড শাখার আধিকারিক এবং বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিটের সদস্যরা। তদন্তের স্বার্থে মণ্ডপ বন্ধ থাকায় দুর্গাপ্রতিমার নিরঞ্জন কীভাবে হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। অবশেষে সেই জটিলতা কাটিয়ে শনিবার নিরঞ্জনের পথে চোরবাগানের প্রতিমা।

প্রায় ২৫ ফুট উঁচু এই প্রতিমা মণ্ডপ থেকে বের করাও ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, মণ্ডপের ভিতরেই প্রতিমা তৈরি করেন শিল্পী সুশান্ত শিবানি পাল। প্রতি বছর নিরঞ্জনের আগে মণ্ডপের পিছনের অংশ খুলে প্রতিমা বের করে ট্রাকে তোলা হয়। কিন্তু এ বছর পদপিষ্টের ঘটনার তদন্ত চলায় সেই প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রতিমা বের করার ক্ষেত্রে একাধিক বাধা তৈরি হয়। কারণ সেদিনের বিভীষিকাময় ঘটনা এক্সিট গেটের সামনেই ঘটেছিল।
তদন্তের স্বার্থে মণ্ডপের কাঠামো যতটা সম্ভব অক্ষত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই প্রতিমা বের করার অনুমতি দেন সিটের প্রধান ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী।
আরও খবর
শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুমতি মেলার পর শুরু হয় প্রতিমা বের করার প্রস্তুতি। মণ্ডপের মূল প্রবেশপথের একটি অংশ কেটে প্রতিমা বের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে তদন্তের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোর ক্ষতি যথাসম্ভব কম হয়।
শিল্পীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল থেকেই প্রতিমা বের করার কাজ শুরু হয়। নানা কারিগরি সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা সামলে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতিমাটিকে মণ্ডপের বাইরে আনা হয়। এরপর ট্রলিতে তুলে নিরঞ্জনের জন্য গঙ্গার ঘাটের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্রতিমাটিকে।
একদিকে উনিশটি প্রাণহানির ঘটনার তদন্ত, অন্যদিকে মণ্ডপের কাঠামো অক্ষত রাখার বাধ্যবাধকতা—সব মিলিয়ে চোরবাগানের এ বছরের উমা আরাধনায় তৈরি হয়েছিল নজিরবিহীন পরিস্থিতি। অবশেষে সমস্ত বাধা পেরিয়ে নিরঞ্জনের ব্যবস্থা হওয়ায় কাটল দীর্ঘ অনিশ্চয়তা।


