Bengal Liberty : টাকি পৌরসভায় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে নামল সিআইডি। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে শনিবার টাকি পৌরসভায় পৌঁছয় সিআইডির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে পৌরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়-সহ বিভিন্ন সরকারি আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, পৌরসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিও সংগ্রহ করেছেন তাঁরা। তদন্তের স্বার্থে আসল নথিপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও সেগুলির ফটোকপি পৌরসভাকে দিয়ে গিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
টাকি পৌরসভায় কয়েক কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস। গত ৮ জুন তিনি কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ অক্টোবর সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি, আলাদা একটি তদন্তকারী দল গঠন করেও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের সেই নির্দেশ মেনেই এ দিন টাকি পৌরসভায় তদন্তে যান সিআইডি আধিকারিকরা।
তদন্তকারীরা মূলত পৌরসভার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের নথি, বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের স্বাক্ষর খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে। নথিতে দু’বার লেখা হয়েছে কি না, হোয়াইটনার দিয়ে পুরনো লেখা মুছে নতুন করে কিছু লেখা হয়েছে কি না, কিংবা পৌরসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত যথাযথ ভাবে নথিভুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বৈঠকে স্বাক্ষরকারী ব্যক্তিরা ওই দিন পৌরসভায় উপস্থিত ছিলেন কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
আরও খবর
মামলাকারী প্রদ্যুৎ দাসের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব। তাঁর বক্তব্য, ২০২৩ সালে বিধানসভায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। পরে কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি জনস্বার্থ মামলা করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে, টাকি পৌরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমরা সিআইডিকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছি। আধিকারিকরা যে নথিপত্র চেয়েছেন, তা দেওয়া হয়েছে। কিছু নথি তাঁরা নিয়ে গিয়েছেন। তদন্তে আমরা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব।”
এখন তদন্তে সংগৃহীত নথিপত্র খতিয়ে দেখে সিআইডি কী তথ্য পায়, সেদিকেই নজর রয়েছে। তবে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।


