Bengal Liberty : পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে তৎপর ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)। আসানসোলের ধেমোমেন কোলিয়ারি এলাকায় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় নুনিয়া এবং তাঁর বাবা রোহিত নুনিয়ার কার্যালয় ও একটি পেট্রোল পাম্পে বুলডোজার চালিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করল কেন্দ্রীয় কয়লা সংস্থা। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল পুলিশবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (সিআইএসএফ)-এর জওয়ানদের উপস্থিতিতে এই অভিযান চালানো হয়। ঘটনাকে ঘিরে শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
ইসিএল সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট জমি পুনরুদ্ধারের জন্য এর আগেও একাধিক বার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই বাধার মুখে পড়ে ফিরে যেতে হয়েছিল সংস্থার আধিকারিকদের। জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে আদালতের স্থগিতাদেশও পেয়েছিলেন প্রাক্তন কাউন্সিলর বলে জানা গিয়েছে। সেই জটিলতা কাটিয়ে এ বার দুটি বুলডোজার নিয়ে অভিযানে নামে ইসিএল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী ও সিআইএসএফের জওয়ানদের।
এই উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। দীর্ঘ তৃণমূল জমানায় সরকারি জমিতে প্রভাবশালীদের দখলদারি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। ধেমোমেনের সংশ্লিষ্ট জমি ঘিরেও সেই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাস অনুযায়ী, বাম আমলে বাম কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন রোহিত নুনিয়া। পরে তাঁর ছেলে সঞ্জয় নুনিয়াও তৃণমূলের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং বোরো চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে প্রাক্তন কাউন্সিলরের কার্যালয় ও পেট্রোল পাম্পে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই অভিযানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বেড়েছে।
আরও খবর
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার। এই পরিস্থিতিতে সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি সংস্থাগুলির তৎপরতা বাড়ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও এই উচ্ছেদ অভিযানকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করার মতো কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।
আপাতত ধেমোমেনে ইসিএলের বুলডোজার অভিযান ঘিরে শিল্পাঞ্চলে চর্চা তুঙ্গে। সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা, দখলদারি এবং উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে আইনি প্রক্রিয়ার কী পরিণতি হয়, সে দিকেই নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে অন্য এলাকাতেও একই ধরনের অভিযানের পথ প্রশস্ত করে কি না, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।


