Bengal Liberty : শুধু দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি ঘিরে বিতর্কেই থেমে থাকেননি, এ বার সরকারি টেন্ডার বরাদ্দ ও আর্থিক লেনদেন ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগেও কাঠগড়ায় প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর গ্রেফতারির পর সামনে আসছে আরও একাধিক অভিযোগ।
সরকারি টেন্ডার ঘিরে রেড রোডের দুর্গাপুজোর কার্নিভাল থেকে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, ‘বাংলা মোদের গর্ব’ অনুষ্ঠান থেকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব—তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের একাধিক সরকারি অনুষ্ঠানের কাজের বরাত দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, মন্ত্রিত্বকালে কোটি কোটি টাকার কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়া এবং সেই সূত্রে আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ইন্দ্রনীল সেনের মন্ত্রিত্বকালে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মাধ্যমে প্রায় ৫৩ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজের বরাত দেওয়া হয়েছিল ‘GIDI Creation’ নামে একটি সংস্থাকে। অভিযোগ, পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতার প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও একাধিক সরকারি অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পেয়েছিল ওই সংস্থা। পরে সেই কাজের দায়িত্ব ‘Third Line Creation’ নামে অন্য একটি সংস্থাকে দেওয়া হয়। অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫০ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা ওই সংস্থার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়।
আরও খবর
তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ‘Third Line Creation’-এর অ্যাকাউন্ট থেকে ইন্দ্রনীল সেনের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা জমা পড়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর স্ত্রী ও কন্যার সঙ্গে সম্পর্কিত সংস্থাগুলির অ্যাকাউন্টেও বিপুল অঙ্কের টাকা স্থানান্তরের তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি। ইন্দ্রনীলের স্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত ‘Mass Art Society’-র অ্যাকাউন্টে ‘GIDI Creation’ থেকে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং ‘Third Line Creation’ থেকে ৬৬ লক্ষ টাকা জমা পড়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর কন্যার সঙ্গে সম্পর্কিত ‘ISCAPE’ ও ‘Myra’ নামে দুটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে ২২ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা স্থানান্তরের তথ্যও সামনে এসেছে বলে দাবি।
এরই মধ্যে গত ৮ জুন বৌবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন জয়দী মুখোপাধ্যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। ফলে তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি ঘিরে বিতর্কের পর এ বার সরকারি অনুষ্ঠানের টেন্ডার বরাদ্দ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।


