RG Kar Case
Bengal Liberty Desk, ১৭ ডিসেম্বর কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক – ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করেছিল দেশের শীর্ষ আদালত। বুধবার চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ এবং খুন সংক্রান্ত সেই মামলা কলকাতা হাই কোর্টে পাঠিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত এদিন জানিয়ে দিল, আরজি কর মামলার শুনানি কলকাতা হাই কোর্টেই হবে। তার সাথে মামলার সমস্ত নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানোর নির্দেশ (RG Kar Case) দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, নির্যাতিতার বাবা-মাকে এই মামলার স্টেটাস রিপোর্টের একটি প্রতিলিপিও দেওয়া হবে বলে জানায় দেশের শীর্ষ আদালত।

আরজি কর কাণ্ড (RG Kar Case)
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক-ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। তার পরদিনই অর্থাৎ ১০ আগস্ট কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে।
পরে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও, মামলা চলাকালীন একাধিক আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট (RG Kar Case)। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের হাসপাতালে অনুপস্থিতি-সহ বিভিন্ন দিক। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণের পর জাতীয় টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এই টাস্ক ফোর্স গঠনের কারণ মূলত কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রোটোকল তৈরির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।
২০২৫ এর ১৮ জানুয়ারি আরজি কর মামলার রায় ঘোষণা করে শিয়ালদহ আদালত। দোষী সাব্যস্ত করা হয় সঞ্জয় ঘোষকে। ২০ জানুয়ারিভিতাঁকে আজীবন কারাবাসের সাজা ঘোষণা করা হয়। তবে শিয়ালদহ আদালতের রায় ঘোষণার আগেই নির্যাতিতার বাবা-মা সিবিআই তদন্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। তখন সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলায় তা শুনতে চাননি কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি।
তারপরই নির্যাতিতার মা-বাবা একই আবেদন জানান সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না বলেন, একই আবেদনের প্রেক্ষিতে দু’টি আদালতে শুনানি চলতে পারে না। হয় উচ্চ আদালত শুনবে, নয় তো শীর্ষ আদালত। এরপরই শীর্ষ আদালতের নির্দেশে আরজি কর মামলার আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্র পুরোপুরি কলকাতা হাইকোর্টে স্থানান্তরিত হল।
