Angel Chakma’s death sparks outrage over racial bullying
Bengal Liberty: উত্তরাখণ্ডের (Uttarkhand) দেরাদূনের ব্যস্ত বাজার। সাধারণ দিনের মতোই ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বেরিয়েছিলেন ত্রিপুরার ২৪ বছরের ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমা ( Angel Chakma) ও তার ভাই। তাদের কারও ধারনাও ছিল না, বাজারে ঢোকা মুহূর্তেই শুরু হবে অপমান, আর সমাপ্তি ঘটবে মর্মন্তুদ হত্যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাজারে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাঁচ-ছ’জন যুবক তাদের উদ্দেশ্যে বর্ণবাদী মন্তব্য ছুঁড়ে দেয়। ‘চিনা’ বলে ডাকা হয় বারবার। প্রথমে উপেক্ষা করলেও, আচরণ অসহনীয় হয়ে উঠলে শান্ত স্বরেই প্রতিবাদ জানান অ্যাঞ্জেল। তিনি বলেন— “আমরা চিনা নই। আমরা ভারতীয়। কী প্রমাণ চাই আপনাদের?” কিন্তু সেই প্রতিবাদই যেন আগুনে ঘি হয়ে দাঁড়ায়। মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয় পরিবেশ (Dehradun incident)।
ঠিক কী হয়েছিল সেদিন? (Dehradun incident)
ওই ঘটনার সাক্ষীদের দাবি—কথার লড়াই দ্রুত মারাত্মকে পরিণত হয়। প্রথমে অ্যাঞ্জেলের ভাইয়ের ওপর চড়াও হয় দলটি। ভাইকে বাঁচাতে এগোতেই টার্গেট হয়ে পড়েন অ্যাঞ্জেল। অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘাড় ও পিঠে একের পর এক আঘাত করা হয়। মাথায় আঘাত করা হয় ভারী ধাতব কোন বস্তু দিয়ে, যা পরে তদন্তে ‘লোহার কড়া’ বলে অনুমান।
রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অ্যাঞ্জেল। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। ১৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষমেশ শুক্রবার রাতে মৃত্যু হয় তার। ভাই এখনও চিকিৎসাধীন।
CCTV ফুটেজে কী দেখা গেল (Dehradun incident)
দেরাদূন পুলিশ এর তৎপরতায় সম্প্রতি একটি নতুন CCTV ফুটেজ সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে—
কয়েকজন যুবক অ্যাঞ্জেলকে ঘিরে ধরে বচসা শুরু করছে ধাক্কাধাক্কি, তারপর হঠাৎ ধারালো কিছু বের করার ইঙ্গিত। মুহূর্তেই মারধর ও হামলা
ভিকটিমকে টানাহেঁচড়া করে ফেলে আঘাত করা হচ্ছে ফুটেজ জনসমক্ষে পুরোপুরি প্রকাশ না করলেও তদন্তকারীরা নিশ্চিত বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য ছিল ঘটনা শুরুর মূল বিন্দু।
গ্রেফতার কারা? (Dehradun incident)
হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত শুরু হয় পুলিশি অভিযান আর তারপরেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হল
অবিনাশ নেগি, শৌর্য রাজপুত, সূরজ খবাস, আয়ুষ বদোনি ও সুমিত।
এছাড়া, মূল অভিযুক্ত যজ্ঞ অবস্তি এখনও পলাতক, ধারণা করা হচ্ছে সে নেপালে (Nepal) পালিয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি চলছে। এছাড়া এই ঘটনায় নাবালক জড়িত থাকার সূত্রও মিলেছে।
প্রতিক্রিয়া ও বিস্তৃত প্রতিবাদ (Dehradun incident)
দেশজুড়ে ক্ষোভের ঢেউ উঠেছে। শুধু দেরাদূন নয়, ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ত্রিপুরা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ন্যায়বিচারের দাবি তোলছেন বহু মানুষ। ত্রিপুরা(Tripura ) ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু সংগঠন ন্যায়বিচারের দাবি তুলছে। নিহতের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন প্রদ্যোৎবিক্রম মানিক্য দেববর্মা। এছাড়াও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাও ঘটনার তীব্র নিন্দা করে অভিযুক্তদের দ্রুত কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বন্ধুদের কথায়—“অ্যাঞ্জেল শান্ত-সরল ছেলে। একজন ভারতীয় হয়ে ভারতেই বর্ণবিদ্বেষে মরতে হবে—এটাই সবচেয়ে বেদনাদায়ক।”
দেশজুড়ে প্রশ্ন ভারতের মাটিতে একজন ভারতীয় যুবক কেন নিজের পরিচয় ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হবেন? উত্তর-পূর্বের নাগরিকদের চেহারা এবং ভাষা কি এখনও বৈষম্যের লক্ষ্য? অ্যাঞ্জেলের মৃত্যুর পর এই বিতর্ক আরও প্রবল হয়েছে। পুলিশি তদন্ত চলছে, কিন্তু ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় এখন গোটা দেশ (Dehradun incident)।
