Purba Bardhaman Incident
Bengal Liberty, Kolkata:
পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের (Purba Bardhaman Incident) বেরুগ্রামে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। শাসকদলের স্থানীয় নেতার নাম জড়ানোয় উঠছে ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্ন, যদিও অভিযুক্ত নেতার দাবি এটি নিছক পারিবারিক বিবাদ, যার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করতেই প্রভাব খাটানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিয়ে এখন সরব স্থানীয় মানুষ, নজর তদন্তের দিকেই।
ঠিক কী ঘটেছে? Purba Bardhaman Incident
পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের বেরুগ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বাবাকে মারধর ও হেনস্থা করা হয়েছে। এবং এই ঘটনায় তৃণমূলের বেরুগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি শেখ শাহাদ আলি ওরফে লকাইয়ের নাম উঠে এসেছে। এই বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং একটি পারিবারিক বিবাদকে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বোঁয়াইচণ্ডী মায়ের মন্দির সংলগ্ন বাজার এলাকায় দীপক অধিকারীর একটি দোকান রয়েছে। অভিযোগ, বুধবার সেই দোকানে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে। দীপক অধিকারী ওই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বাবা। এরপর তাঁর ছেলেকে ধাক্কা মেরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিজেপি বলে টার্গেট? Purba Bardhaman Incident
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীপক অধিকারী বিজেপি সমর্থক এবং সম্প্রতি বিজেপির একটি কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। এই বিষয়ে বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক কারণেই এই হামলা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, যুবমোর্চার ‘চাকরি চায় বাংলা’ কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার জেরেই দীপক ও তাঁর পরিবারকে জমি সংক্রান্ত একটি বিষয়কে সামনে রেখে টার্গেট করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার লকাই – এর Purba Bardhaman Incident
তৃণমূলের বেরুগ্রাম অঞ্চল সভাপতি শেখ শাহাদ আলি ওরফে লকাইয়ের দাবি, ঘটনাটিকে অযথা রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে শেখ শাহাদ আলি ওরফে লকাই বলেন, ‘দীপকের ভাই দু’বছর আগে মারা গিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী, এক মেয়ে রয়েছে। তাঁদের দু’কাঠা জমি আছে। তা পেতে বার বার দীপক অধিকারীকে বলছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি। বুধবার দীপক অধিকারী কিছু লোকজনকে নিয়ে গিয়ে অশান্তি করেন। আমাদের কাছে খবর আসায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে যাই। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। এখন বিজেপি আমার নামে বদনাম করছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্কই নেই। একটা পারিবারিক ঝামেলা। যা মেটাতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে যাই। মানুষ বিপদে পড়লে, সেখানে যাব, এটাই তো স্বাভাবিক।’
পুলিশি তদন্ত শুরু Purba Bardhaman Incident
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য একজন পরীক্ষার্থীর নিরাপত্তা যদি প্রশ্নের মুখে পড়ে এবং সেখানে শাসকদলের নাম জড়ায়, তাহলে তার থেকে লজ্জার এবং ভয়ংকর বার্তা সমাজের জন্য আর কিছু হতে পারে না বলে জানাচ্ছেন বিশিষ্ট মহল।
