Trinamool Congress Rayna Conflict
Bengal Liberty, Kolkata:
রাজ্যে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও সংগঠনের ভিত কতটা শক্ত তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে শাসক শিবিরে(Trinamool Congress Rayna Conflict)।পূর্ব বর্ধমানের রায়না এলাকার হিজলনায় শাসকদলের অন্দরের দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে। প্রায় এক বছর ধরে তালাবন্ধ দলীয় কার্যালয়, আর সেই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে স্থানীয় নেতৃত্ব।

কী ঘটেছে ( Trinamool Congress Rayna Conflict)
পূর্ব বর্ধমানের রায়না-র হিজলনায় প্রায় এক বছর ধরে তালাবন্ধ পড়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস-এর দলীয় কার্যালয়। স্থানীয় রাজনীতিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিধায়ক শম্পা ধাড়া ও ব্লক সভাপতি বামদেব মণ্ডল-এর গোষ্ঠীর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়েছে যে, দলীয় অফিসের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন রাখতে হয়েছে প্রশাসনকে।
একসময় রাজনৈতিক পালাবদলের পর এলাকায় শান্তি ও সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধির কথা বলা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি সেই দাবিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে বলে মত স্থানীয়দের একাংশের। বিরোধীদের সঙ্গে নয়, বরং দলের অন্দরেই ক্ষমতার লড়াই এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে অভিযোগ উঠছে। আর সেই গোষ্ঠী সংঘাতের জেরেই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে রয়েছে দলীয় কার্যালয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ঐক্যের কথা বললেও মাটির স্তরে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং ক্ষমতার লড়াইয়ে দলীয় সংগঠন ভেঙে পড়ছে বলেই মত বিরোধীদের।
কী বললেন দুই তরফ? Trinamool Congress Rayna Conflict
পার্টি অফিসে তালা দেওয়া প্রসঙ্গে ব্লক সভাপতি বামদেব মণ্ডল সরাসরি বলেন, “তৃণমূল সেজে থাকা কিছু ব্যক্তি পার্টি অফিসে অসামাজিক কাজ করে দলের মুখ পোড়ানোর চেষ্টা করছিল। তাই দলের সম্মান রক্ষার্থেই আমি তালা দিয়েছি। উচ্চ নেতৃত্ব নির্দেশ দিলে তবেই তালা খোলা হবে।
অন্যদিকে, বিবাদের কথা কার্যত এড়িয়ে গিয়ে বিধায়ক শম্পা ধাড়া বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে আমি চাই পার্টি অফিসটি খোলা হোক। বিষয়টি উচ্চ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।”

পুরোনো দ্বন্দ্ব (Trinamool Congress Rayna Conflict)
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই দ্বন্দ্ব নতুন নয়। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের সময় থেকেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ চরমে ওঠে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, দলীয় অফিস ব্যবহারের অধিকার নিয়েই শুরু হয় টানাপোড়েন। শেষ পর্যন্ত সংঘাত এড়াতে প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে এবং এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে জানা যাচ্ছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে বড় প্রশ্ন উঠছে দল পরিচালনার বদলে কি এখন অন্দরের ক্ষমতার লড়াই সামলাতেই ব্যস্ত শাসক শিবির? স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সাধারণ কর্মী ও মানুষের সমস্যা সমাধানের বদলে নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্বই এখন বড় হয়ে উঠছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সংগঠন ও প্রশাসনের উপর মানুষের আস্থা আরও কমতে পারে বলেই আশঙ্কা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
