Bengal Liberty, ২৩ মে :
নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তারই মধ্যে এবার দুর্নীতির বেড়াজাল ভেঙে স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার বার্তা দিল রাজ্য সরকার (CM Suvendu Adhikari)। শিক্ষক নিয়োগ থেকে পুরসভা, একাধিক দুর্নীতির ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার শিয়ালদহে আয়োজিত রোজগার মেলার মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী দিনে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে বিধানসভার আগামী অধিবেশনে নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন আইন আনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে দেশজুড়ে আয়োজিত রোজগার মেলার অংশ হিসেবে এদিন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কর্মসংস্থান মেলার আয়োজন করা হয়। দেশের মোট ৪৭টি কেন্দ্রে একযোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে প্রায় ৫১ হাজার চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে (CM Suvendu Adhikari)।

“নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যের বদনাম হয়েছে” (CM Suvendu Adhikari)
শিয়ালদহের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি আগের সরকারের আমলে হওয়া নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর কথায়, “আপনারা জানেন পশ্চিমবঙ্গের বদনাম হয়ে গিয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, পুরনিয়োগ দুর্নীতি, হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ,সব মিলিয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের অনেক ক্ষতি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের ঘটনা গোটা রাজ্যের কাছে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে রাজ্যের মানুষের আস্থা ফেরানোই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই সরকারি এবং সরকারপোষিত বিভিন্ন সংস্থায় স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধ করতে কড়া আইন এবং প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির উপর জোর দেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

নতুন নিয়োগ আইন আনার ইঙ্গিত (CM Suvendu Adhikari)
রোজগার মেলার মঞ্চ থেকেই শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিধানসভার আগামী অধিবেশনে নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন আইন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়োগ পদ্ধতি থেকে শিক্ষা নিয়েই পশ্চিমবঙ্গে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রেল, আধাসামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ করছে, পশ্চিমবঙ্গও সেই পথেই এগোবে।” একইসঙ্গে লিখিত পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও দেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমাদের উদ্দেশ্য থাকবে ওএমআরের কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের দেওয়া।”
আরও খবর

রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে আক্ষেপের সুরও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে একসময় দেশের অনেক আশা ছিল, কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আগামী দিনে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করাই সরকারের লক্ষ্য।


