TMC Councillor Death
Bengal Liberty, ২৩ মে :
দেবরাজ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলারের অস্বাভাবিক মৃত্যু (TMC Councillor Death)। উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতিতে ফের তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল এই তৃণমূল নেতার মৃত্যুকে ঘিরে। মৃত কাউন্সিলরের নাম সঞ্জয় দাস, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তিনি। এদিন তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় শনিবার সকাল থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ইঙ্গিত মিললেও, রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। কারণ, মৃত কাউন্সিলারকে ব্যারাকপুরের তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলেই জানা যায়। যখন দেবরাজ চক্রবর্তী একাধিক গুরুতর মামলায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন ঠিক সেই সময়েই এই ঘটনা সামনে এল। তাই এই মৃত্যুকে হালকায় নিচ্ছেননা কেউই (TMC Councillor Death)।

বাড়ি থেকেই উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ (TMC Councillor Death)
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের। পরে ঘরের ভিতরে ঢুকে তাঁরা সঞ্জয় দাসকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে নাগেরবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ আত্মহত্যার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখলেও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সমস্ত দিক খোলা রেখেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেপ্তারির পর থেকেই চাপে ছিলেন? (TMC Councillor Death)
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই মানসিক চাপে ছিলেন সঞ্জয় দাস। সম্প্রতি তোলাবাজি, ভোট-পরবর্তী হিংসা-সহ একাধিক মামলায় দেবরাজ চক্রবর্তীকে আটক করে পুলিশ। তারপর থেকেই দেবরাজের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক তৃণমূল নেতার নাম তদন্তে উঠে আসতে শুরু করে। সঞ্জয় দাসও সেই তালিকায় ছিলেন কিনা, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, গ্রেপ্তারির আশঙ্কা বা তদন্তের চাপ কি তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল? নাকি এই মৃত্যুর পিছনে রয়েছে আরও গভীর কোনও কারণ? যদিও এই বিষয়ে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।

এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব শোকপ্রকাশ করেছে। তবে দলের অন্দরে চাপা উদ্বেগও বাড়ছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক তৃণমূল নেতার নাম বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে পড়ায় সকলের আক্রমণও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত কাউন্সিলারের মোবাইল ফোন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

