Bengal Liberty Desk, ১০ মার্চ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন যতোই ঘনিয়ে আসছে বঙ্গের হওয়া ততোই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে এসে ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের প্রতিনিধিদল কলকাতায় প্রশাসনিক বৈঠক যেমন করেছে, তেমনই ধর্মীয় স্থান পরিদর্শন ও সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের উদ্দেশ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও হিংসামুক্ত ভোটের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে একাধিক ঘোষণা করেন তিনি। আজ, মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। বৈঠক থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ন বিষয় উত্থাপন করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তার পাশাপাশি এদিন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে যেতেও দেখা গেল জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar)।
বাংলার ভোটার সংখ্যা বিশাল, বিশেষ সুবিধা প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষমদের (Gyanesh Kumar)

সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, পশ্চিমবঙ্গের মোট ভোটার সংখ্যা এতটাই বড় যে তা প্রায় ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও উরুগুয়ের সম্মিলিত ভোটার সংখ্যার সমান। তিনি বলেন, রাজ্যে ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রায় ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ভোটার রয়েছেন। প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য বাড়ি থেকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে। সমস্ত পোলিং বুথ গ্রাউন্ড ফ্লোরে থাকবে যাতে প্রবীণদের অসুবিধা না হয়। এছাড়া প্রতিটি বুথে টয়লেট, পানীয় জল, পর্যাপ্ত আলো, আশ্রয়কেন্দ্র ও হেল্প ডেস্ক রাখার নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আরও খবর
স্বচ্ছতা বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার (Gyanesh Kumar)
ভোট প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, ভোটগ্রহণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে eci.net অ্যাপে প্রকাশ হবে ভোটের হার।
পোলিং এজেন্টদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সেই হার ট্যালি করা হবে। কোথাও গরমিল থাকলে VVPAT কাউন্টিং করা হবে। এছাড়াও ভোটাররা ওই অ্যাপ থেকেই জানতে পারবেন-তাঁদের ভোটকেন্দ্র কোথায় এবং কোন আসনে কারা প্রার্থী হয়েছেন।
নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কমিশনের কড়া নির্দেশ (Gyanesh Kumar)

পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান জ্ঞানশ কুমার। তিনি বলেন-কোনও বুথে ১২০০-এর বেশি ভোটার থাকবে না। বুথের বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় মোবাইল রেখে তবেই ভোটকক্ষে ঢুকতে হবে। প্রশাসন ও পুলিশকে সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বেআইনি নগদ, মদ বা মাদক ব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভুয়ো খবরের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
কত দফায় ভোট হবে বঙ্গে (Gyanesh Kumar)?
পশ্চিমবঙ্গে কত দফায় নির্বাচন হবে, তা এখনই চূড়ান্ত নয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার পাশাপাশি তিনি আরও বলেন- SIR প্রক্রিয়া সংবিধান মেনেই হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানা হয়েছে। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক হয়েছে। দিল্লিতে ফিরে কমিশন রিভিউ মিটিং করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এড়িয়ে গেলেন গুরুত্বপুর্ন প্রশ্ন (Gyanesh Kumar)!
এখানেই শেষ না সমস্ত প্রশ্নের উত্তরের মাঝেও বেশ কিছু প্রশ্ন এড়িয়ে যান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। যেমন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা যদি ফাইনাল না হয় তাহলে কোন লিস্টে ভোট হবে? এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান জ্ঞানেশ কুমার। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর একাধিকবার চিঠি লিখলেও তিনি কেন জবাব দেননি?- এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন তিনি।
আরও পড়ুন-
Gyanesh Kumar WB Protest: ভোটের আগে উত্তপ্ত বাংলা, বেলুড় থেকে দক্ষিণেশ্বর ফের বিক্ষোভের মুখে জ্ঞানেশ কুমার
Gyanesh Kumar Kalighat Temple Protest: মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় কমিশনারকে ঘিরে বিক্ষোভ, কালীঘাটে উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান!
প্রসঙ্গত, রাজ্যে এসে জ্ঞানেশ কুমার কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর মন্দির ও বেলুড় মঠে পুজো দেন এবং বাংলার মানুষকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, “এই নির্বাচন হবে অবাধ, স্বচ্ছ এবং হিংসামুক্ত”, এখন নজর সেই ঘোষণার বাস্তবায়নের দিকে এবং কবে ঘোষণা হবে ভোটের দিনক্ষণ, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। যদিও এই সফর ঘিরে বেশ কিছু জায়গায় ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ও কালো পতাকার বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে।


