Most violent match in football history
Bengal Liberty, কলকাতা ১০ মার্চ ২০২৬ :
এ যেন পাড়ার গুন্ডামি! প্রতিপক্ষকে লাথি-ঘুষিতে একেবারে জর্জরিত করার এক আজব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবল প্রতিযোগিতা (Most violent match in football history)। কাম্পিওনাতো ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ক্রুজেইরো বনাম ক্লাবে অ্যাটলেটিকো মিনেইরো। সমর্থকদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ম্যাচের শুরু থেকেই দেখা গিয়েছিল। গ্যালারি থেকে আসছিল বাঁধভাঙা চিৎকার।
দুই দলেই উপস্থিত ছিলেন একাধিক নামকরা তারকা ফুটবলার। একদিকে হাল্ক, ব্রুনো, মার্সেলো; অন্যদিকে কোচের ভূমিকায় ছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি তিতে । এছাড়া মাঠে ছিলেন লোদি ও অ্যালান।

ঘটনার সূত্রপাত (Most violent match in football history)
ম্যাচের গতি ছিল অত্যন্ত তীব্র। এর মধ্যেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ক্রুজেইরো। জর্জের গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের আবারো ব্যাকফুটে ঠেলে দেন বারবোসারা। কিন্তু তারপরেই ঘটে এক নজিরবিহীন ঘটনা। রক্তাক্ত হয়ে ওঠে ফুটবলের সবুজ মাঠ। ম্যাচের ঠিক ৪৫+৬ মিনিটের খেলা চলাকালীন ক্রুজেইরোর খেলোয়াড়কে মাটিতে ফেলে মিনেইরোর গোলরক্ষক সরাসরি বুকে পা তুলে দেন। এরপর একে একে সবাই এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে হাতের বাইরে চলে যায় এবং উভয় পক্ষই মারমুখী হয়ে ওঠে।
এক ম্যাচে ২৩টি লাল কার্ড
এরপর মাঠে শুরু হয় হাতাহাতি, লাথি ও ঘুষির লড়াই। সমস্ত খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ একে অপরের দিকে তেড়ে যান। এই মারাত্মক মারপিটে জড়িয়ে পড়েন ব্রাজিলের এক সময়কার বিশ্বকাপ তারকা হাল্ক। পরিস্থিতি সামলাতে রেফারি এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। একসাথে ২৩ জন ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ফুটবলের ইতিহাসে এমন ‘ব্লাড বাথ’ বা রক্তাক্ত ম্যাচ আগে কখনোই দেখা যায়নি। ক্রুজেইরো দল থেকে ১২ জন এবং অ্যাটলেটিকো মিনেইরো থেকে ১১ জনকে লাল কার্ড দেওয়া হয়। রেফারির ভূমিকায় থাকা মাঠেউস দেলগাড়ো নিজের সমস্ত ক্ষমতা দিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেছেন।
রক্তের হোলির পর আবার শুরু হয় ম্যাচ :
শেষমেশ সব ঝামেলার বাধা কাটিয়ে আবারো ম্যাচ শুরু হয়, কিন্তু স্কোরলাইনে বিশেষ কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ১-০ গোলেই ম্যাচ শেষ হয় এবং কাম্পিওনাতো ট্রফি ঘরে তোলে তিতের ছেলেরা। এই রক্তাক্ত ম্যাচের পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগেও ঘটেছিল এমন ঘটনা:
২৩টি লাল কার্ডের এই ঘটনা পুরো ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে সামনে এসেছে আরেকটি পুরনো ম্যাচের কথা। ১৯৫৪ সালের একটি টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হয়েছিল সাও পাওলো বনাম বোটাফোগো । সেই ম্যাচে ২২টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল এবং বেশ কিছু খেলোয়াড়কে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
রক্তাক্ত ফুটবল ম্যাচ কেউ কখনোই দেখতে চায় না। বর্তমানে ম্যাচ নিয়ে কোনো আলোচনা নেই, সর্বত্র কেবল আলোচনা চলছে—কে কাকে মারল এবং হাল্কের সাথে ঠিক কী ঘটেছিল। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার তদন্ত কতদূর গড়ায় এবং কারা কঠিন শাস্তির মুখে পড়েন।
