Bengal Liberty
বর্ষা এলেই পাহাড়ের(Darjeeling Landslide) রূপ যেমন বদলায়, তেমনই বাড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা। গত তিন সপ্তাহে টানা বৃষ্টিতে দার্জিলিং জেলায় প্রায় ৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামার সঙ্গে এক প্রশাসনিক বৈঠকে এই তথ্য তুলে ধরেছে দার্জিলিং জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই একাধিক জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিপর্যয় মোকাবিলায় এসডিআরএফ ও ডিএমজির প্রস্তুতি(Darjeeling Landslide)
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বর্ষায় গত ১০ জুলাই থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দার্জিলিং জেলার পাহাড়ি এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে দেড়শোরও বেশি ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৫০টি ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট বেশি, যার জেরে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দ্রুত রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রী বিশাল লামা জানান, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি অঞ্চল অত্যন্ত ধসপ্রবণ। তাই প্রশাসনকে সর্বদা সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

বিপর্যয় মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই সেভক ও সুখিয়াপোখরিতে এসডিআরএফের (SDRF) দুটি দল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি এনডিআরএফ, বিএসএফ, এসএসবি এবং এসডিআরএফকে নিয়ে যৌথ মকড্রিলের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া ১০০ সদস্যের একটি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ (DMG) গঠন করা হবে, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এবার পাহাড়ে ‘ইন্টিগ্রেটেড ডিস্ট্রিক্ট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার’ চালু করা হয়েছে।
আরও খবর
বৈঠকের শেষে দার্জিলিং(Darjeeling Landslide)
এই কেন্দ্রের মাধ্যমে পুলিশ, দমকল, স্বাস্থ্য, পূর্ত ও পিএইচই-সহ মোট ১৫টি দফতর পারস্পরিক সমন্বয় রেখে কাজ করবে। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে স্যাটেলাইট ফোন এবং পুলিশের আরটি (RT) সেটও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বৈঠকের শেষে দার্জিলিং পুরসভা ও জিটিএ-র (GTA) উন্নয়নমূলক কাজ নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে পাহাড়ের তিনটি পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি জিটিএ এলাকাতেও উন্নয়নের গতি আরও বাড়ানো হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।



