Bengal Liberty, ৯ জুন ২০২৬ : গত ৪ জুন শতাব্দীপ্রাচীন লর্ডস(Lords Cricket Ground) ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। চার দিনের মাথায় টেস্ট ম্যাচটিতে ১১৫ রানে জয়ী হয় ‘থ্রি লায়নস’রা। জমজমাট লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এগিয়ে গেছে ইংল্যান্ড। তবে এই জয়ের খবরের চেয়েও ম্যাচজুড়ে পিচের আচরণ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

এমনকি লর্ডসের দুই শতাব্দীর ইতিহাসে এই প্রথমবার পিচ নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আইসিসি (ICC), এবং মাঠটিকে ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কী এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো যার জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ একটি টেস্ট ম্যাচ এই ধরনের পিচে খেলা হলো?
আরও খবর
কেন ডিমেরিট পয়েন্ট(Lords Cricket Ground)
ম্যাচের শুরু থেকেই পিচে বল অদ্ভুতভাবে এবং অসমভাবে বাউন্স করছিল। দুই দলের কোনো ব্যাটারই বড় রান পাননি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, মাত্র ৯৯৬ বলের মধ্যে দুই ইনিংস মিলিয়ে দুই দলের সবকটি উইকেট পড়ে যায়; যা লর্ডসের ১৪০ বছরের ইতিহাসে কখনো ঘটেনি। পিচের এই খামখেয়ালি আচরণ নিয়ে দুই দলের অধিনায়কই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আইসিসি এই পিচ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং খুব শীঘ্রই একটি আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট প্রকাশ করবে।
আরো পড়ুন:- Ind A vs Sri A Match Review: গায়কোয়াড়-তিলকের যুগলবন্দী, জয় দিয়ে শুরু ভারতের

পিচ বিতর্ক ও দ্বিমুখী নীতি(Lords Cricket Ground)
লর্ডসের এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটবিশ্বে একটি পুরোনো প্রশ্ন নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে—এমন পিচ যদি ভারতের কোনো মাঠে হতো, তবে কি সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম অন্যরকম হতো না? অতীতে একাধিকবার ভারতের পিচ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ভন ও মাইকেল অ্যাথারটন; সুর মিলিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারও। গুজরাটের নরেন্দ্র মোদি

স্টেডিয়াম হোক কিংবা কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনস—ভারতের পিচে সামান্য টার্ন বা অসঙ্গতি থাকলে যেভাবে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও সমালোচনা হয়, ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার পিচ নিয়ে কি সেই একই তীব্রতায় কথা বলা হয়? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট সমর্থকরা এখন দুই ভাগে বিভক্ত।
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও কি একই ছবির পুনরাবৃত্তি ঘটবে, নাকি সমালোচনার গ্লানি কাটিয়ে চেনা ছন্দে ফিরবে ঐতিহ্যবাহী লর্ডসের পিচ ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট—তা-ই এখন দেখার বিষয়।


