Bengal Liberty
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কবল(Nepal Flood)থেকে ২১ জন তামিল তীর্থযাত্রীর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করল একটি শাড়ি। কাদায় ঢাকা বাঁধের উপর থেকে নিচে নামানো সেই শাড়িই কার্যত তাঁদের কাছে ‘প্রাণরক্ষা কবচ’ হয়ে ওঠে।তীর্থযাত্রীদের বেশিরভাগই ছিলেন বয়স্ক। প্রায় দেড় দিন অপেক্ষার পর তাঁদের হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হয়।শুক্রবার রাতে কাঠমান্ডু হয়ে চেন্নাইয়ে পৌঁছন ওই ২১ জন। তবে শনিবার পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে থাকা তিনটি বাসের বাকি যাত্রীদের কোনও সন্ধান মেলেনি। চেন্নাইয়ের আরও একটি পৃথক ৪৯ জনের তীর্থযাত্রী দলও নিখোঁজ রয়েছে।ভেলাচেরির মুরুগু নগরের বাসিন্দা নাভু কবীরদাস ও তাঁর স্ত্রী বিজয়া ভুবনেশ্বরী বলেন, ‘‘মনে হচ্ছে যেন আমরা নতুন করে জন্ম নিয়েছি।


’’কুম্ভকোনমের একটি সংস্থার ব্যবস্থাপনায় তিনটি বাসে মোট ৫৭ জন রসুয়া হয়ে চিন-তিব্বত সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁদের বাসটি ছিল দ্বিতীয়। কাদায় আটকে যাওয়ায় মেরামতির জন্য কিছুক্ষণের জন্য বাসটি থামানো হয়েছিল। ভুবনেশ্বরীর মতে, ওই কয়েক মিনিটের বিরতিই শেষ পর্যন্ত তাঁদের জীবন বাঁচিয়ে দেয়।কবীরদাস বলেন, ‘‘হঠাৎ বোমা বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শুনতে পেলাম। পাথর এসে বাসের উপর পড়তে শুরু করল। এরপর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো ভয়ঙ্কর গতিতে জল ছুটে এল।’’ভুবনেশ্বরী জানান, তাঁদের পিছনে থাকা বাসটি হেলে পড়তে দেখে তিনি আর সেদিকে তাকাতে পারেননি। নেপালি চালক বিপদ বুঝতে পেরে সবাইকে বাস থেকে নেমে দ্রুত উপরের দিকে উঠে যেতে বলেন। এরপর তিনিও গাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। যাত্রীরাও তাঁর নির্দেশ মেনে বাস থেকে বেরিয়ে আসেন।
শাড়ি হল জীবনদড়ি(Nepal Flood)
দলের ২১ জনের বেশিরভাগের বয়সই ৫০ বছরের বেশি। তাঁদের প্রায় এক তলা উঁচু কর্দমাক্ত ঢাল বেয়ে উপরে উঠতে হচ্ছিল। বারবার পা পিছলে পড়ছিলেন তাঁরা। দলের সদস্য পুঙ্গোদি কোনওভাবে উপরে পৌঁছে নিজের সোয়েটার পরে নেন। এরপর শাড়ি খুলে সেটি নিচে থাকা বাকিদের দিকে নামিয়ে দেন।ভুবনেশ্বরী বলেন, ‘‘আমরা শাড়ি শক্ত করে ধরে উপরে উঠেছিলাম। শেষে একজন মহিলা যাত্রী একা উঠতে না। পারায় আমরা তাঁকে শাড়িটি কোমরে বেঁধে নিতে বলি। দলের বাকিরা শাড়িটি ধরে তাঁকে বলপূর্বক উপরে তুলে আনে।’’পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে শিবিরে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁদের জল ও বিস্কুট দেওয়া হয়। কয়েকজন শরণার্থী মোবাইলে ছবি পাঠিয়ে দেন তামিলনাড়ুতে। তারা সুস্থ আছে, সেই বার্তা পাঠায়
আরও খবর
যাত্রীদের ভয়ানক অভিজ্ঞতা(Nepal Flood)
কাঞ্চিপুরমের শিক্ষিকা ভুবনেশ্বরী দেবী জানিয়েছেন, পাহাড়ে ওঠার সময় তাঁরা এক ব্যক্তিকে কাদায় আটকে থাকতে দেখেন। অসহায় ব্যক্তি সাহায্যের জন্য হাত নাড়াছিলেন। বিষয়টি উদ্ধারকারী দলকে জানানো হয় এবং পরে ওই ব্যক্তিকেও উদ্ধার করা হয়। পরের দিন প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কাঁটাঝোপ ও সরু পাহাড়ি পথ পেরিয়ে তাঁরা উদ্ধারের জায়গায় পৌঁছন। দলের অপর এক তীর্থযাত্রী কবীরদাস বলেন, ‘‘একটু ভুল হলেই প্রায় ৫০ ফুট নিচে পড়ে যেতে পারতাম। একবার আমরা ভুল পথে চলে গিয়েছিলাম।

এক নেপালি ব্যক্তি আমাদের সঠিক পথ দেখান। প্রথমে নিচে নামতে হয়, তারপর অন্য দিক দিয়ে আবার উপরে উঠতে হয়। নিচে নামাটা উপরে ওঠার থেকেও কঠিন ছিল।’’ পরে সামরিক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তারা নিরাপদ জায়গায় পৌঁছান। সেখান থেকে কাঠমান্ডু ও নয়াদিল্লি হয়ে তাঁরা চেন্নাইয়ে ফেরেন। ঘটনাচক্রে কয়েকজনের পাসপোর্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে গেছে।
উদ্ধারের দায়িত্ব পালন করছেন উচ্চতর আধিকারিকরা(Nepal Flood)
তামিলনাড়ুর মন্ত্রী এ রাজমোহন জানিয়েছেন, তামিলনাড়ু থেকে ৪০০-রও বেশি মানুষ নেপালে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ জনের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে মাত্র ৮৫ জনের খোঁজ মিলেছে। মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের নির্দেশে মন্ত্রী আধব অর্জুন, রাজমোহন, কে থেন্নারাসু এবং আর বিনোথ দিল্লি থেকে উদ্ধার ও সমন্বয়ের কাজ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন । তামিলনাড়ু সরকার জানিয়েছে, নিখোঁজদের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া যাঁদের পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথি হারিয়েছে, তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজও চলছে।



