Bengal Liberty:
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানাল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। সংগঠনের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভারতীয় চেতনাকে আঘাত করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে(ABVP On Jadavpur University)। ঘটনার পিছনে অতি-বাম তথা নকশালপন্থী রাজনীতির প্রভাব রয়েছে বলেও দাবি ABVP-র।

ফলক ভাঙলো কারা (ABVP On Jadavpur University)
ABVP-র অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ফলকটি শুধুমাত্র একটি স্থাপত্য নিদর্শন নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। সেই ফলকই পরিকল্পিতভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের দাবি, উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে উপস্থিত জনতাকে ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলকটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
আরও খবর
ঘটনার পর একাধিক প্রশ্ন তুলেছে ABVP। তাদের প্রশ্ন, ফলক ভাঙার সময় ঘটনাস্থলে কারা উপস্থিত ছিলেন? কারা সেখানে উপস্থিত জনতাকে উসকানি দিয়েছিলেন? কার নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের উপর আঘাত হানা হল? গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দাবি জানিয়েছে সংগঠন(ABVP On Jadavpur University)।
পাঁচদফা অভিযোগ(ABVP On Jadavpur University)
ABVP-র প্রদেশ সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্যের দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার প্রতীকগুলিকে বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে আনার প্রবণতার ধারাবাহিকতাতেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তাঁর।
এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে ABVP। সংগঠনের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে নিরপেক্ষ তদন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের CCTV ফুটেজ সংরক্ষণ করে তদন্তের আওতায় আনা, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও প্রতীকগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বিজেপির ভূমিকায় প্রশ্ন(ABVP On Jadavpur University)
প্রসঙ্গত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে SFI ও ABVP-র সংঘর্ষ ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা যে রাজ্যের রাজনীতিতেও যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য। যদিও ABVP কোনও বিজেপি-নিয়ন্ত্রিত ছাত্র সংগঠন নয় এবং বিজেপির সঙ্গে এর সরাসরি সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবুও ঘটনার দিন ABVP-র আহত ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভে যোগ দিতে দেখা যায় যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—একদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে ABVP-র সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক অস্বীকার করা, অন্যদিকে দলীয় বিধায়কের প্রকাশ্য সমর্থন। এই দুই অবস্থানের মধ্যে কি কোনও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে?
ABVP – র অবস্থান(ABVP On Jadavpur University)
এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, কয়েক দিন আগে কলকাতায় CJP-এর বিক্ষোভ এবং বৈঠকের উদ্যোগ ঘিরেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। বিজেপির অভিযোগ, বাম ও অতি-বাম ছাত্র সংগঠনগুলি CJP-কে রাজনৈতিকভাবে মদত দিচ্ছে। সেই আবহেই যাদবপুরে SFI ও ABVP-র সংঘর্ষ নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, বাম ও অতি-বাম ছাত্র রাজনীতির মোকাবিলায় রাজনৈতিকভাবে ABVP-কে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করে তুলতে কি বিজেপি পরোক্ষভাবে ভূমিকা নিচ্ছে? নাকি এটি নিছকই ছাত্র রাজনীতির সংঘাত? উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুনঃ সীমান্ত সুরক্ষায় ‘জমি জট’, মমতা সরকারকে নিশানা! শুভেন্দুর তৎপরতার প্রশংসা শাহের


