Bengal Liberty : যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দ্বিতীয় মামলার তদন্তভারও দিল্লি পুলিশের অপরাধদমন শাখা বা ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দু’জনেই তিহাড় জেলে বন্দি। তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সিজেপি। বুধবার মামলাটির শুনানি হতে পারে। অন্যদিকে, হেফাজতের মেয়াদও বুধবার শেষ হচ্ছে। ফলে দুই নেতার মুক্তি নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
যন্তর মন্তরে প্রবেশ, গ্রেফতার দুই নেতা
সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরকে অনুমোদিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ওই নির্দেশের পর সেখানে জমায়েত ও বিক্ষোভ কর্মসূচির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে সিজেপির কয়েক জন কর্মী লোহার দরজা টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন। সেখানে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পাশাপাশি ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দেন তাঁরা। পুলিশ প্রথমে তাঁদের আটক করে। পরে সৌরভ ও আশুতোষকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ এবং আইন অমান্য করে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলার তদন্তভারও ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ মোট দু’টি এফআইআর দায়ের করেছে। সূত্রের খবর, প্রথম মামলাটির তদন্তভার সোমবারই ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার দ্বিতীয় মামলাটিও অপরাধদমন শাখার হাতে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, দুই সিজেপি নেতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দু’টি মামলারই তদন্ত করবে দিল্লি পুলিশের এই বিশেষ শাখা।গ্রেফতারের পর স্পেশাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ ও রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছিলেন। সোমবার সেই মেয়াদ শেষ হয়। তবে তাঁদের মুক্তি মেলেনি। বিচারক আরও দু’দিন হেফাজতের মেয়াদ বাড়ান। সেই সিদ্ধান্তের পরেই আইনি পথে এগোয় সিজেপি। দলের দাবি, দুই নেতাকে আর জেলে আটকে রাখার কোনও যুক্তি নেই। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।
আরও খবর
হাই কোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন সিজেপির
বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সিজেপি। মঙ্গলবার রাতেই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানানো হয়। দলের আইন বিষয়ক প্রধান রত্না সিংহের বক্তব্য, সৌরভ ও রাঙ্কাকে আর এক মিনিটও জেলের পিছনে রাখা উচিত নয়। তবে অবকাশকালীন বেঞ্চে বুধবার মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ দিকে, বিচারবিভাগীয় হেফাজতের বর্ধিত মেয়াদও বুধবার শেষ হচ্ছে। ওই দিন দুপুরে দুই নেতাকে ফের স্পেশাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হবে। ফলে হাই কোর্টের শুনানি এবং ম্যাজিস্ট্রেটের পরবর্তী সিদ্ধান্ত-দুই দিকেই নজর রয়েছে।


