Bengal Liberty
পালা বদলের পর আশা ছিল স্কুলে (SLST) শিক্ষক নিয়োগ হবে। কিন্তু ফের SLST নিয়োগে সিঁদুরে মেঘ। জাতিগত সংরক্ষণ নিয়ে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ না মেলায় ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এর ফলে আগামী ১৪ অগস্ট থেকে একাদশ-দ্বাদশের যে কাউন্সেলিং হওয়ার কথা ছিল, সেটিও স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হল চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে।


সূত্রের খবর, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থী যাচাইয়ের যে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে অনগ্রসর কল্যাণ দফতরের ৭ অগস্টের একটি নির্দেশ সামনে আনা হয়েছে। সেখানে ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আদালতের নির্দেশের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। ওবিসি সংরক্ষণ তালিকা নিয়ে রাজ্য সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা এবং পর্যালোচনার বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ওবিসি সংরক্ষণ জটিলতায় আটকে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া(SLST)
ওবিসি সংরক্ষণ ১৭ শতাংশ থাকবে, নাকি নতুন নিয়মে তা ৭ শতাংশ হবে—তা নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা। একাদশ-দ্বাদশে যে সব প্রার্থীর কাউন্সেলিং হয়ে গিয়েছিল, তাঁদের পুলিশি যাচাই এবং মেডিক্যাল পরীক্ষার কথা ছিল। কিন্তু আপাতত সেই প্রক্রিয়াও স্থগিত করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।উল্লেখ্য, ২০১০ সালের পর ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭৭টি সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। ওই ৭৭টি সম্প্রদায়ের মধ্যে ৭৫টি ছিল মুসলিম সম্প্রদায়। ২০২৪ সালের মে মাসে হাই কোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার।
আরও খবর

তবে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর জানিয়ে দেয়, ওবিসি তালিকা সংক্রান্ত পূর্বতন সরকারের মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করা হবে। সেই মতো মামলা প্রত্যাহার করে শুভেন্দু সরকার। এরপর ২০১০ সালের আগের সমীক্ষার ভিত্তিতে স্বীকৃত ৬৬টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৭৭টি সম্প্রদায়ের ওবিসি স্বীকৃতি বাতিল হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত(SLST)
এই আইনি জটিলতার জেরেই আপাতত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছিল। পরে নতুন করে পরীক্ষায় বসেন তাঁদের একাংশ। যত দিন না নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে, তত দিন শিক্ষকরা বেতন পাবেন বলে জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত রয়েছে সেই বেতন পাওয়ার মেয়াদ। এর মধ্যেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াও আপাতত স্থগিত। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ফের তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী দিনে এই জটিলতা কীভাবে কাটে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।



