Bengal Liberty : বিজয়া দশমীতে ফেসবুকে করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল। ওই পোস্টের প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পুলিশ তাঁকে নোটিস দিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নোটিসের নির্দেশ পালন না করলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে তাতে উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি।
গত দশমীর দিন হাওড়ার বাজে কদমতলা ঘাটে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন কুণাল। সেই পোস্টকে কেন্দ্র করেই পুলিশের এই পদক্ষেপ বলে জানা যাচ্ছে। যদিও ওই পোস্টে কোনও আপত্তিকর মন্তব্য করেননি বলেই দাবি করেছেন কুণাল ঘোষ।
এ দিন পুলিশের দল তাঁর বাড়িতে যাওয়ার পরেই সমাজমাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান কুণাল। নিজের এক্স হ্যান্ডলে তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়েছে। তাঁর বাড়িতে হাওড়া পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল এসে নোটিস দিয়েছে। চার দিনের মধ্যে নির্দেশ পালন না করলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরও খবর
কুণালের বক্তব্য, ফেসবুক পোস্টটি খতিয়ে দেখেও তিনি কোনও আপত্তিকর বিষয় খুঁজে পাননি। নিজেকে হিন্দু বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, পুজো-পার্বণ ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তিনি যুক্ত। স্থানীয় মঠ, সনাতন ধর্ম প্রচার সম্মেলন এবং একটি মিশনের যুগ্ম সভাপতি বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “সনাতন ধর্মের তত্ত্ব আমাকে শেখানোর চেষ্টা করবেন না। রাজনৈতিক স্বার্থে আমি এই শব্দ ব্যবহার করি না।”
এর পাশাপাশি, অতীতে তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি বলে অভিযোগ করেন কুণাল। হাই কোর্ট যথাযথ নিরাপত্তার নির্দেশ দিলেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে তাঁর দাবি। অথচ এখন একটি সমাজমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে তাঁকে গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে সরব হয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, পুজোর সময় অষ্টমীর দিনও থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ার কাছে তাঁর গাড়ি হামলার মুখে পড়েছিল বলে অভিযোগ। নিজের বিধানসভা এলাকাতেও হামলার মুখে পড়েছিলেন ওই তৃণমূল বিধায়ক। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অষ্টমীর দিন নারকেলডাঙা থানায় হাজিরা দেন তিনি।


