Bengal Liberty : সেবাশ্রয়ে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বস্তি দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Abhishek Banerjee)। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ, তদন্ত চলবে, তবে আপাতত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই রক্ষাকবচ বহাল থাকবে। তবে তদন্তে অভিষেককে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে তাঁকে নোটিস দিতে পারবে পুলিশ।
মামলার শুনানিতে সেবাশ্রয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পদ্ধতি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মামলায় সরাসরি যুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, চিকিৎসায় গাফিলতি হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করার জন্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। অথচ সেই কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ না জানিয়ে সরাসরি পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে (Abhishek Banerjee)।

‘ভুল চিকিৎসা হয়েছে কি না, ঠিক করবে কে?’ প্রশ্ন আদালতের (Abhishek Banerjee)
শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানতে চান, রোগীর পক্ষ থেকে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল, জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন বা ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের মতো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও অভিযোগ জানানো হয়েছিল কি না। তাঁর প্রশ্ন, চিকিৎসায় ভুল বা গাফিলতি হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করবে কোন কর্তৃপক্ষ?আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, চিকিৎসক কোনও ভুল করে থাকলে তার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি কী ভাবে দায়ী করা যায়? তিনি নিজে তো চিকিৎসা করেননি। ফলে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।
আরও খবর
শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, চিকিৎসায় ভুলের সঙ্গে অভিষেক সরাসরি যুক্ত না হলেও আইন মেনে সেবাশ্রয় পরিচালনা করা হয়নি। রাজ্যের দাবি, ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট আইনের আওতায় এই ধরনের স্বাস্থ্য পরিষেবা চালাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। অভিযোগ, সেই অনুমতি ছাড়াই সেবাশ্রয়ে এক্স-রে এবং আল্ট্রাসোনোগ্রাফির মতো পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের আরও দাবি, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালের কিছু নষ্ট বা মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী ২০২৫ সালে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেবাশ্রয়কে ঘিরে একাধিক অভিযোগের কথাও আদালতে জানায় রাজ্য।

‘এক ব্যক্তির নামে একাধিক মামলা’, মন্তব্য আদালতের (Abhishek Banerjee)
মামলার শুনানিতে অভিযোগকারীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। আদালতে জানানো হয়, অভিযোগকারী অভিজিৎ দাস অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দু’বার নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এই তথ্যের প্রেক্ষিতে অভিযোগের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন বিচারপতি। অভিযোগকারীর আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য আদালতে দাবি করেন, কোনও ব্যক্তি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন বলেই তিনি অভিযোগ করতে পারবেন না, এমনটা নয়। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আগেই সন্দেহ প্রকাশ করাও ঠিক নয়। তিনি তদন্ত বন্ধ না করার আবেদন জানান।

অন্যদিকে, গত কয়েক মাসে একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার প্রসঙ্গও টেনে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘এটা কী চলছে?’’ একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে শুভেন্দু অধিকারীর মামলার মতো নির্দেশ দেওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। আদালতের অনুমতি ছাড়া নতুন করে কোনও এফআইআর দায়ের করা যাবে কি না, সেই প্রশ্নও শুনানিতে উঠে আসে।
তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, তদন্ত বন্ধ করা হচ্ছে না। তদন্ত চলবে, কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজনীয়তা এই মুহূর্তে আদালত দেখছে না। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর রক্ষাকবচ বহাল থাকবে। এর আগে ৪ জুলাই বিষ্ণুপুর এবং পরে রবীন্দ্রনগর থানায় সেবাশ্রয় সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ এবং অয়ন ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/09/07/flight-accident/


