delhi blast
Bengal liberty : সুইসাইড বম্বার ডা. উমর নবি ভাট লালকেল্লা বিস্ফোরণের তিন দিন আগে বোন-শাশুড়িকে ফোন করে জানায় — তিন দিনের মধ্যে বাড়ি ফিরবে সে। কিন্তু সোমবার রাতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় উমরের পরিবার যখন তার ফেরার অপেক্ষায় ছিল, তখনই পুলিশ গিয়ে পৌঁছায় তাদের বাড়িতে।
তদন্তের স্বার্থে উমরের দু’ই ভাই জহুর ইলাহি, আশিক হুসেনকেও আটক করে পুলিশ। উমরের বাবা গুলাম নবি ভাটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সুইসাইড বোম্বারের মাকে নিয়ে গেছে পুলিশ। উমরের দাদার স্ত্রী মুজামিলা আখতার জানান, “আমরা কিছুই জানতাম না। সকালে সংবাদমাধ্যম বাড়িতে এলে গোটা বিষয়টা জানতে পারি।”
পুলিশের দাবি, উমর ছিলেন “হোয়াইট-কলার গ্রুপ”-এর মাথা। দলটি সম্প্রতি ধরা পড়া এক জঙ্গি মডিউলের অংশ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছে, ফারিদাবাদ থেকে ডা. মুজাম্মিল আহমদ গণাই-এর গ্রেফতারির ঘটনারে পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন উমর।
উমরের পরিবার জানিয়েছে, শুক্রবারে শেষবার তার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। তখন উমর বলেছিলেন, “আমি ব্যস্ত, লাইব্রেরিতে আছি, তিন দিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরব।”

অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিষয়ে জানা গিয়েছে,(Delhi blast)
উমর স্থানীয় স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে শ্রীনগরের গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ও এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে আনন্তনাগ মেডিক্যাল কলেজে কাজ করতেন। চিকিৎসক আদিলের ঘনিষ্ঠ ছিল উমর। দেড় বছর আগে তিনি ফারিদাবাদে চলে যান ও আল ফালাহ ইউনিভার্সিটির মেডিকেল সায়েন্সেস বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।
উমরের এক কিলোমিটার দূরে থাকেন ডা. মুজাম্মিল গণাইয়ের পরিবার। তারা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে মুজাম্মিল জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত। মুজাম্মলের বোন আসমত শেখিল বলেন, “বিশ্বাসই করতে পারছি না। ১০ নভেম্বর মুজাম্মলের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। ২০১৭ সালে জম্মুর বত্রা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে মুজাম্মিল শ্রীনগরের এসকেআইএমএস হাসপাতালে কাজ করতে শুরু করেন। পরে ফারিদাবাদের আল ফালাহ ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন। তাঁর ছোট ভাই আজাদ বর্তমানে ইউজি NEET পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দিল্লি বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে ফরিদাবাদে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় আটক করা হয় লখনউয়ের বাসিন্দা চিকিৎসক শাহিন সাইদকে। তদন্তকারীরা জানিয়েছে, ভারতে জইশ-ই-মহম্মদের নারী শাখা ‘জামাত উল-মোমিনাত’-এর নেতৃত্ব দিতেন শাহিনই।পাকিস্তানে এই সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন জইশ প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার। শাহিনের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন কাশ্মীরের চিকিৎসক মুজাম্মিল গনাই।
সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত সকল চিকিৎসকই জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত।এদের সূত্রে ধরেই লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্ত এখন নতুন দিকে এগোচ্ছে।
