CEO will be present at Sonagachi's form fill-up camp
Bengal Liberty: ভয় নেই আর সোনাগাছির যৌনকর্মীদের। বাংলায় SIR প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে রয়েছেন এই ভেবে যে নাম বাদ পড়তে পারে। তবে, কমিশন বারবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অযথা এই বিষয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনে চললে কোনও সমস্যা হবে না। তবে, এই আতঙ্কিতদের তালিকায় ছিলেন সোনাগাছির যৌনকর্মীরা। বাংলায় SIR প্রক্রিয়া শুরুর ১৭ দিনের মাথায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালকে চিঠি লেখে যৌনকর্মী এবং তাঁদের সন্তানদের নিয়ে কাজ করা তিনটি সংগঠন- ‘সোসাইটি অফ হিউম্যান ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাকশন’, ‘উষা মাল্টিপার্পাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ এবং ‘আমরা পদাতিক’। রাজ্যের সিইও-র উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে মূলত তিনটি সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথমত, কখনও গ্রাম তো কখনও ভিনরাজ্য থেকে যারা সোনাগাছিতে আসেন, তাঁদের পক্ষে ২০০২ সালের নথি জোগাড় করা সমস্যার বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যৌনকর্মীদের বক্তব্য, ‘উষা মাল্টিপার্পাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের অ্যাকাউন্টকে নথি হিসাবে ধরে নিয়ে ২০০৭ সালে তৎকালীন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দেবাশিস সেন সোনাগাছিতে এসেই যৌনকর্মীদের মধ্যে ভোটার আইডি কার্ড তুলে দিয়েছিলেন। ফলে, এবারেও তাঁরা কমিশনের তরফে বিকল্প নথি বন্দোবস্তের দাবি জানান। তৃতীয়ত, সোনাগাছিতে বসবাসকারী যৌনকর্মীদের অনেকেরই সন্তান সদ্য ভোটাধিকার পেয়েছেন। ফলে, এনুমারেশন ফর্ম ফিলআপ করার ক্ষেত্রে বাবার নাম দেওয়ার বিষয় নিয়ে তাঁরা সংশয় প্রকাশ করছেন।
তবে, মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালকে এই চিঠি সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, দরকার পড়লে সোনাগাছির যৌনকর্মীদের জন্য বিশেষ ক্যাম্প করে হিয়ারিং-এর ব্যবস্থা করা হবে।
সশরীরে ক্যাম্পে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের সিইও(SIR)
প্রয়োজনে রাজ্যের সিইও সশরীরে সেই বিশেষ ক্যাম্পে উপস্থিত থাকবেন। রাজ্যের সিইও জানান, নথিপত্র সব ঠিক থাকলে এবং কমিশনের নিয়মানুযায়ী ১১টি নথি থাকলে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না তাঁদের। রাজ্যের সিইও আশ্বস্ত করেছেন, বৈধ কোনও ভোটারের নাম বাদ পড়বে না। সোনাগাছিতে প্রায় ১০ হাজার যৌনকর্মীদের আনাগোনা। প্রায় ৭ হাজার যৌনকর্মী সেখানে স্থায়ী ভাবে বসবাস করেন এবং প্রায় ৩ হাজার যৌনকর্মী সেখানে রোজ পেশার তাগিদে ছুটে যান। সোনাগাছির যৌনকর্মীদেরকে এই সমস্যার বিষয়ে প্রশ্ন করা , যৌনকর্মীদের একাংশ জানান, পারিবারিক এবং সামাজিক কারণে অনেকেই বাড়িতে তাঁদের পেশার বিষয়ে বলতে পারেন না। ফলে, পরিবার থেকে সেই নথিও নিয়ে আসা সমস্যার হয়ে দাঁড়ায়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে যারা স্থায়ী ভাবে ঘর ছেড়েছেন, তাঁরা বাড়ি থেকে নথি নিয়ে আসতে পারেন নি। ফলে, সোনাগাছির যৌনকর্মীদের সমস্ত সমস্যারই যে এ বার অবসান ঘটতে চলেছে সেই বিষয়ে স্পষ্ট করলেন খোদ রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। তিনি পরিষ্কার জানান তাঁর বিশেষ ক্ষমতা কে প্রয়োগ করে এই বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে তাঁদের চিহ্নিত করা হবে। এখন দেখার বিষয় নির্বাচন কমিশন এশিয়া মহাদেশের সবথেকে বড় রেডলাইট অঞ্চল সোনাগাছির বাসিন্দাদের কত সুষ্ঠু ভাবে এই কাজ করতে সক্ষম হয়।
