TMC
Bengal Liberty: সর্বভারতীয় দলের তকমা হারানোর পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আইনি পথে লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক এক বৈঠকের ছবি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি স্বীকার করে নিলেন যে তৃণমূল আর জাতীয় দল নয়?
ঘটনা, সোমবার দলের নির্বাচিত বিধায়ক-সাংসদ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত ভার্চুয়াল বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিও। সেখানেই দেখা যায়, বৈঠকের সময় তাঁদের চারিপাশে ব্যানারে বড় করে লেখা,“পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস”। এ লেখা ঘিরেই হাজারও প্রশ্নের জন্ম নেয়।
জাতীয় দলের স্বীকৃতি হারানোর পটভূমি (TMC)
পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মণিপুর ও অরুণাচলে রাজ্য-দলের মর্যাদা পাওয়ার ভিত্তিতে ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর তৃণমূলকে ‘আঞ্চলিক’ দল থেকে ‘সর্বভারতীয়’ দলের স্বীকৃতি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু পরবর্তীতে জাতীয় দলের মানদণ্ড পূরণ করতে না পারায় সেই স্বীকৃতি খোওয়ায় দল।
জাতীয় দল হতে গেলে তিনটি মূল শর্ত পূরণ করতে হয়—
১/লোকসভা নির্বাচনে অন্তত তিনটি রাজ্য থেকে ভোটে লড়াই করতে হবে।
২/লোকসভার মোট আসনের ২ শতাংশ (বর্তমানে ১১টি আসন) পেতে হবে।
৩/অন্তত চারটি রাজ্যে রাজ্য-দলের মর্যাদা থাকতে হবে।
তৃণমূল বর্তমানে কোনও শর্তই পূরণ করতে পারেনি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি,কৌশলগত ব্যর্থতার কারণেই ত্রিপুরা, গোয়া, মেঘালয়সহ অন্যান্য রাজ্যে প্রভাব বিস্তার করে উঠতে পারেনি মমতা-অভিষেক নেতৃত্ব।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, TMC ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০১৪ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ২১টি রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা যায় জাতীয় দলের মর্যাদার জন্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে পারেনি তৃণমুল। জাতীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি রাখতে হলে অন্তত ৪টি রাজ্যে “রাজ্য দল” (state-party) হিসেবে স্বীকৃতি থাকা আবশ্যক।
কয়েক মাস আগেই বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা করা হয়। তখন থেকেই শুরু হয়েছিল জল্পনা—
অভিষেককে কি ইচ্ছাকৃত জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সংসদীয় দায়িত্বে আনা হয়েছে?
বর্তমানে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ব্যাখ্যা,সর্বভারতীয় দলের স্বীকৃতি হারানোর পর অভিষেকের ‘সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক’ পদটি কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছিল। তাই তাঁকে লোকসভায় নেতৃত্ব করার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

