Bangladesh
Bengal Liberty: ৩ ডিসেম্বর, কলকাতা: সম্প্রতি কিছুদিন আগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঠিক অন্যদিকে ইউনুস সরকার করছে শোষণের রাজনীতি। আজ বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু সহ লালন ফকির ইত্যাদি মহান ব্যক্তিদের গুরুত্ব নামমাত্রই এসে দাঁড়িয়েছে। ধর্মের নামে চলছে গণহত্যা এবং সব থেকে ভয়ংকর সেখানে হয়ে দাঁড়িয়েছে জিহাদ। যেখানে একটা জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি” সবার প্রিয় ছিল আজ সেই সোনার বাংলা হয়ে উঠেছে “রক্তাক্ত বাংলা”। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি বাংলাদেশে খুলনায় আবার উল্টো দিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাড়ি ভারতের হুগলির চুঁচুড়ায়। মহান মানুষেরা বলে গেছেন “যতদিন গঙ্গা বইবে পদ্মা বইবে ভারত ও বাংলাদেশ একসাথে রইবে”।

মাইনাস টু কনস্পোরেসি (Minus 2 Bangladesh)
বিএনপির (BNP) আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন যে “মাইনাস-টু” ষড়যন্ত্রের কোনও লাভ হবে না। বাংলাদেশের সচেতন জনগণ কাউকে এটি করতে দেবে না। তিনি জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শেখ হাসিনা কীভাবে এবং কার সহায়তায় দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন। এই যে মাইনাস টু ইনফরমেশন ষড়যন্ত্র এটি শুধুমাত্র শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া দুজনের সম্পর্কে ভাঙনই শুধু নয়, দুজনকে বাংলাদেশ থেকে সারা জীবনের মতো সরিয়ে দেওয়ার একটা হুংকার। যতবার বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনার নাম আমরা একসাথে খবরের পাতায় দেখেছি ততবার আমাদের চোখে পড়েছে উগ্র সন্ত্রাস।

হাসিনার (Sheikh Hasina) ওপর ১৯ বার আক্রমণ (Bangladesh terror attack)

সালটা ২০০৪ আওয়ামী লীগের তরফ থেকে একটি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত করা হয় উগ্র সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। বিকেল ৫টা বেজে ২২মিনিট,২১শে আগস্ট হঠাৎই আক্রমণ নেমে আসে তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ পদযাত্রায় উপস্থিত সমস্ত মানুষের উপর। যার মধ্যে ২৪ জন মৃত প্রায় ৫০০ জন আহত হন এবং দ্রুততা সহকারে পুরো পদযাত্রা ওখানেই স্থগিত করতে হয় প্রায় ২০০০০ মানুষের প্রাণ রক্ষার্থে। যেটাকে নাম দেওয়া হয় “Dhaka Grenade Attack”। তারপর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপরে ১৯ বার আক্রমণ করা হয় উগ্র সন্ত্রাসবাদীদের মাধ্যমে। তার মধ্যে কখনও কখনও যেই সন্ত্রাসবাদীরা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল তারা হয় কলকাতা নয় পশ্চিমবঙ্গের ভিন্ন প্রান্ত থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন এবং উল্টোদিকে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে হাজারও রক্তবীজের মত সন্ত্রাসবাদীরা।
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বাংলাদেশ সফর (President Pranab Mukharjee at Bangladesh)

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ২০১৩ সালে প্রথম ফরেন ট্রিপ হিসেবে বাংলাদেশে যান ৩রা থেকে ৫ই মার্চ অব্দি। এখানে সবাই দেখতে পায় যে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক অটুট রাখার জন্য তিনি এই সফরে সর্বপ্রথম ঢাকা যান এবং তিনি পুরস্কারপ্রাপ্ত হন “Bangladesh highest honour for his role in 1971 liberation war” তারপর তিনি “Honorary doctorate in Law” পান ঢাকা ইউনিভার্সিটির (Dhaka University) পক্ষ থেকে।
ঠিক ৪ঠা মার্চ ২০১৩ ঢাকায় প্রণব মুখার্জি হোটেলের বাইরে ককটেল বোমা নিক্ষেপ। এই মুহূর্তে কেউ আহত হননি কিন্তু এই নিক্ষেপণ করা হয় ঠিক দুপুর দুটোর সময় যেটা তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ অপূর্ব হাসান জানান।
আমরা দেখতে পেলাম যতবারই ভারত এবং বাংলাদেশ একসাথে এসেছে ততবার জন্ম নিয়েছে সন্ত্রাসবাদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
সন্ত্রাসবাদীদের কোন দেশ হয় কী? কোন পরিবার হয়? তারা কি শুধু একটা জিনিসই বোঝে “সন্ত্রাস”? তাদের কাছে জেহাদই তাদের কানুন, তাদের ভগবান এবং জেহাদ-ই তাদের শেষ সম্বল? তাদের দাবি হয়তো একটাই তারা জেহাদের মাধ্যমে দেশে বা বিদেশে তাদের নতুন সংগঠন গড়ে তুলবে। এর জন্য তারা নানা রকম জঙ্গি সংগঠন এবং অনেক বড় বড় সন্ত্রাস নেতাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে এই উগ্র সন্ত্রাসবাদকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে রেখেছে যার মধ্যে ২৬/১১ মুম্বাইয়ের তাজ হোটেলে অ্যাটাক হোক অথবা ওসামা বিন লাদেনের আমেরিকায় ৯/১১ হোক তারা তাদের প্রভাব প্রত্যেকটা মুহূর্তে মানুষের সামনে দেখাতে চায়? তারা মানুষকে ভয় এর মধ্যে রাখতে চায়। আজ এই সব কারণের জন্যই কি বাংলাদেশ বা সোনার বাংলা পরিণত হয়েছে রক্তাক্ত বাংলায়?
