BGBS flop show says samik suvendu
Bengal Liberty: ‘BGBS‘ অর্থাৎ বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের নামে মানুষকে ঠকানোর ‘দুর্বল চিত্রনাট্য’ মঞ্চস্থ করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার, এই অভিযোগে আজ বুধবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির খতিয়ান প্রকাশ করল বিজেপি। কীভাবে বাংলায় বিনিয়োগের কবর খোঁড়া হয়েছে সেই তথ্য তুলে ধরা হয় একটি পুস্তিকার মাধ্যমে। এ দিন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দু’জনেই যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেন।
এ দিন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রথমেই রাজ্যের বেহাল দশার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল ৯২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, সিপিএম এমন অবস্থা করে দিয়ে গিয়েছে যে কেউ লিজ নিতেও চাইবে না। তবু মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন তৃণমূল সরকার সবটা দায়িত্ব সহকারে দেখবে। এই অবস্থার পরিবর্তন কীভাবে হবে তা তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলেও তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেন বাংলাকে গুজরাত, মহারাষ্ট্র হতে দেবেন না। অথচ সেই মহারাষ্ট্রে বিদেশি বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এই রাজ্য থেকে একেরপর এক শিল্প ছেড়ে চলে গিয়েছে।’ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প সম্ভবনা ও পরিস্থিতি এ দিন একটি পুস্তিকার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। যেখানে গত আটটি BGBS ঘিরে ঘোষিত বিনিয়োগ ও বাস্তব চিত্রের তুল্যমূল্যর হিসাব রয়েছে (BGBS flop show says samik suvendu)।
বিজেপির দাবি (BGBS flop show says samik suvendu)
সাল ২০১৫– মোট ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ছিল।
সাল ২০১৬– ৯০ মউ (মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হয়, ২ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা হয়েছিল।
সাল ২০১৭– ঘোষিত বিনিয়োগ ২ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি, ১১০ টি মউ স্বাক্ষরিত হয়।
সাল ২০১৮– মোট ২ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা এবং ১৩৭ টি মউ চুক্তি হয়।
সাল ২০১৯ – ২ লক্ষ ৮৪ হাজার কোটি বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি, ৮৬ টি মউ স্বাক্ষর।
সাল ২০২২– ৩ লক্ষ ৪২ হাজার কোটি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি।
সাল ২০২৩– ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা এবং ১৮৮ টি মউ স্বাক্ষর।
সাল ২০২৪– ৪ লক্ষ ২৪ হাজার কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি ঘোষিত হয়েছিল।
২০১৫-২০২৪, এতগুলি মউ চুক্তি হলেও অধিকাংশই কার্যকর হয়নি। উল্টে বাণিজ্য সম্মেলনের খরচ ক্রমেই বেড়েছে- ২০১৬ সালে বাণিজ্য সম্মেলন ৩০ কোটি, ২০১৭ সালে ৩৫ কোটি, ২০১৮ সালে ৪০ কোটি, ২০১৯ সালে ৪৫ কোটি, ২০২৩ সালে ৫০ কোটি, ২০২৪ সালে ৬৭ কোটি খরচ হয়। মোট বিনিয়োগে প্রতিশ্রুতি ২০ লক্ষ কোটি টাকা এবং ৮০০ টি মউ চুক্তি সাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও কার্যক্ষেত্রে দেখা যায় বিনিয়োগ ‘শূন্য’।
বিজেপির দাবি, যে সামান্য বিনিয়োগ হয়েছে তা মূলত এমএসএমই বা ক্ষুদ্র শিল্পক্ষেত্রে। বড় শিল্প বা তার অনুসারী শিল্পে কোনও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হয়নি। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “রাজ্যের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ বড় শিল্প। অথচ তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে মূলত ফলের জুস, খাদ্যপণ্য জাতীয় শিল্পেই বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ।”
বিরোধী দলনেতার দাবি, “যেটুকু বিনিয়োগ হয়েছে সেটাও সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য। মুদ্রা যোজনার মত ছোট ছোট ঋণ পেয়েছেন মানুষজন তার তার জন্য এই খাদ্য পণ্য সংক্রান্ত কিছু বিনিয়োগ হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ে, হাইওয়ে, পোর্ট, বিমান ইত্যাদির বিভিন্ন আন্ডারটেকিং সংস্থার বিনিয়োগের কারণে হয়েছে। অথচ BGBS এর জন্য ৫০০ কোটি টাকা খরচ হলেও সেই তুলনায় এই রাজ্যে বিনিয়োগ শূন্য।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে কটাক্ষের সুরে এ দিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ভারাক্রান্ত। তাই এ বছর নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে ২০০ কোটি টাকা খরচ না করে ধনধান্য অডিটোরিয়ামে বিজিবিএস করা হচ্ছে(BGBS flop show says samik suvendu)।”
