Ratan Tata
Bengal Liberty Desk, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫: রবিবার অর্থাৎ ২৮ সে ডিসেম্বর (28th December) তাঁর ৮৮তম জন্মবার্ষিকীতে দেশজুড়ে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হল প্রয়াত শিল্পপতি ও জনহিতৈষী রতন টাটাকে (Ratan Tata)। শিল্প, দানশীলতা ও নৈতিক নেতৃত্বে তাঁর অবদান আজও ভারতীয় সমাজ ও কর্পোরেট জগতের পথপ্রদর্শক।
রতন টাটাকে শ্রদ্ধার্ঘ্য: (Ratan Tata)
এই উপলক্ষে টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন (N Chandrasekharan) মুম্বইয়ের বম্বে হাউসে (Bombay House) রতন টাটার মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান। টাটা ট্রাস্টস এক্স হ্যান্ডেল(X handle) -এ জানায়, “রতন টাটার নির্দেশনায়, জনহিতকর কাজ দাতব্য থেকে কৌশলগত, ফলাফল-ভিত্তিক পদ্ধতিতে বিকশিত হয়েছিল, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকা, নারী-ক্ষমতায়ন এবং আরও অনেক কিছুর দিকে মনোনিবেশ করে দীর্ঘমেয়াদী রূপান্তর এবং সম্প্রদায়ের স্থিতিস্থাপকতার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে”।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Home minister Amit Shah), মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ(Maharashtra Chief Minister Devendra Fadnavis), অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও নেতা রতন টাটার সততা, করুণা ও জাতি গঠনে অবদানের কথা স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান।
অমিত শাহ X-তে লিখেছেন, “তিনি সততা এবং করুণার সাথে ভারতীয় উদ্যোগকে নতুন রূপ দিয়েছেন। দেশীয় শিল্প গড়ে তোলা থেকে শুরু করে নিঃস্বার্থ দানশীলতা পর্যন্ত, তিনি দেখিয়েছেন যে প্রকৃত সাফল্য জাতির সেবায় নিহিত। তাঁর উত্তরাধিকার স্বনির্ভর ভারতকে অনুপ্রাণিত করবে”।
টাটা গ্রুপকে বিশ্বব্যাপী একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে রতন টাটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, যার উদ্যোগগুলি ইস্পাত(Steel), অটোমোবাইল(Automobile), সফ্টওয়্যার(Software) এবং টেলিযোগাযোগের (Telecommunications) মতো শিল্পগুলিকে বিস্তৃত করেছিল। তার কর্মজীবনের শুরুতে, তিনি টাটা মোটরস (পূর্বে টেলকো,Telco) এবং টাটা স্টিল সহ বেশ কয়েকটি টাটা কোম্পানির সাথে কাজ করেছিলেন এবং ন্যাশনাল রেডিও এবং ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন।
১৯৯১ সালে টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রতন টাটা গোষ্ঠীতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনেন এবং আন্তর্জাতিক অধিগ্রহণের মাধ্যমে টাটাকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেন। টেটলি, কোরাস, জাগুয়ার-ল্যান্ড রোভার অধিগ্রহণ থেকে টিসিএস-কে পাবলিক করা ও এয়ার ইন্ডিয়া ফেরানোর মতো ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
পদ্মভূষণ ও পদ্মবিভূষণপ্রাপ্ত রতন টাটা ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর প্রয়াত হন। তবে তাঁর আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব আজও দেশকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
