Shantiniketan Poush Mela
Bengal Liberty Desk, ৩০ ডিসেম্বর, শান্তিনিকেতন: শান্তিনিকেতন (Shantiniketan) নামটি উচ্চারণ করলেই চোখের

সামনে ভেসে ওঠে লালমাটির রাস্তা, বাউল গানের সুর, রবীন্দ্রনাথের (Rabindranath Tagore) অনন্ত মানবিকতার পথচলা। এই শহরের নিশ্বাসে লুকিয়ে রয়েছে শিল্প, সাহিত্য, রবীন্দ্রনাথের দর্শন আর বাউল গানের ঢেউ। আর সঙ্গে রয়েছে শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা (Shantiniketan Poush Mela)। আর এই মেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক যাত্রা। এখানকার মাটির প্রদীপ থেকে নকশা করা শাড়ি, বাউল-পটচিত্র থেকে ডোকরা শিল্প (Dokra Craft) সব মিলিয়ে মানুষের হাতবদল হয় অসংখ্য পণ্য। খাবারের দোকানে ভিড় জমে পর্যটকদের, পোশাক ও হস্তশিল্পের চাতাল ভরে ওঠে দরদাম ও হাঁকডাকে। সংস্কৃতি, শিল্প আর বাণিজ্যের এই মেলবন্ধনই পৌষমেলাকে জীবন্ত করে তোলে প্রতি বছর (Shantiniketan Poush Mela)।
এই মেলাকে (Shantiniketan Poush Mela) ঘিরে প্রতিবছর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের পর্যটক আসেন মেলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তাঁদের উপস্থিতিতে মেলার অর্থনৈতিক চাকা ঘোরে দ্বিগুণ গতিতে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। খাবার, পোশাক, হস্তশিল্প সব কিছুর পাশাপাশি কেনাকাটা ছিল উপচে পড়া। তবে এই ভিড়ের মাঝেই সবচেয়ে নজর কাড়ল এক ভিন্ন ক্ষেত্র মদের বিক্রি। সাংস্কৃতিক মেলার ভিড়ে বই-হস্তশিল্প-খাবারের মতোই তাল মিলিয়ে তুঙ্গে উঠেছে মদের বাজার (Shantiniketan Poush Mela)।
পৌষ মেলায় বিক্রি হল কত টাকার মদ (Shantiniketan Poush Mela)?
সরকারি হিসেবে জানা গিয়েছে, চলতি পৌষমেলাতে (২৩–২৮ ডিসেম্বর) মাত্র ৬ দিনে বোলপুর ও শান্তিনিকেতনের ৪৪টি দোকান থেকে মদ বিক্রি হয়েছে ২ কোটি ৪৯ লক্ষ ৯৬ হাজার ৪১১ টাকার(₹2.49 Crore)! বিদেশি মদ(Foreign Liquor), দেশি মদ (Indian Liquor), বিয়ার (Beer), সব মিলিয়ে মানুষ মদকেই সঙ্গী করেছে। তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি মদের বিক্রি সবার উপরে ১ কোটি ২৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৪৮০ টাকা।
দেশি মদ বিক্রি হয়েছে ৯৮ লক্ষ ৬৩ হাজার ২৪০ টাকার।
আর বিয়ারেই ২৬ লক্ষ৭ হাজার ৪৩০ টাকার লেনদেন!

প্রশ্ন উঠছে, মানুষ পৌষমেলায় (Shantiniketan Poush Mela) আসছেন বাউল–কথা শুনতে, না কি পেগ তুলতে? শিল্পীরা বলছেন, “সংস্কৃতি পালনের জায়গা এটি। মানুষ আসে মাটির গন্ধ, কবিগুরুর স্মৃতি অনুভব করতে।” কিন্তু ব্যবসায়ীরা অন্য হিসাব দেখছেন কারণ তাঁদের কাছে মেলা মানেই রোজগারের সময়। অন্যান্য দিনের তুলনায় এই কয়েকটা দিন তাদের তুলনামূলক আয় বেশি হয়।
আগে যেখানে লোকেরা বই, পটচিত্র, হস্তশিল্প হাতে নিয়ে ফিরত, এখন অনেকের ব্যাগে বাজে কাঁচের বোতলের শব্দ। রাত্রি নামলেই মেলার একাংশ যেন বদলে যায় কেউ বাউলের সুরে ডুবে যায়, কেউ আবার উচ্চস্বরে হাসাহাসি করে, সেলফি তোলে হাতে গ্লাস নিয়ে (Shantiniketan Poush Mela)।
প্রশ্ন রয়েই যায়! পৌষমেলা কি শিল্প–সংস্কৃতির কেন্দ্র, নাকি নতুন প্রজন্মের নাইটলাইফ গন্তব্য? রবীন্দ্রনাথের বাউল-পথে চলা মানুষ কি এখন মদ মিউজিকের শো উপভোগে বেশি আগ্রহী? সাংস্কৃতিক মেলা নাকি উৎসবের নামে পানীয়ের বাজার? সময় বলবে কোন চেহারা সত্যিই স্থায়ী হবে। তবে পরিসংখ্যান একটাই কথা বলছে সংস্কৃতির চেয়ে বিকিকিনির বাজারে মানুষ বেশি মেতেছে এই বছরের শান্তিনিকেতনের পৌষমেলায় (Shantiniketan Poush Mela)।
