Santiniketan Poush Mela
Bengal liberty Desk, ২৫ ডিসেম্বর, শান্তিনিকেতন: শহরজুড়ে যেন শীতের মরসুম। আর শহর থেকে একটু দূরে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনে এখন পৌষের আনন্দ (Santiniketan Poush Mela)। চিরাচরিত প্রথা মেনে ছাতিমতলায় ব্রাহ্ম উপাসনার মাধ্যমে শুরু হয়ে গেল চলতি বছরের পৌষমেলা ও পৌষ উৎসব। শীতের নরম রোদ আর উৎসবের আমেজে প্রথম দিন থেকেই মেলার মাঠে উপচে পড়ল মানুষের ঢল (Santiniketan Poush Mela)।
গত মঙ্গলবার ভোর সাড়ে সাতটায় শুরু হয় মূল উপাসনা অনুষ্ঠান। বিশ্বভারতীর ছাত্রছাত্রীরা ঐতিহ্যবাহী সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি ও শাড়ি পরে অংশ নেন এই অনুষ্ঠানে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু পর্যটকও উপাসনায় উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বভারতীর সঙ্গীত ভবনের পড়ুয়া ও শিক্ষকদের কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উপাসনায় এক অনন্য আবহ তৈরি হয়। ভোর থেকেই শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মী ও আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ছাতিমতলা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর (Santiniketan Poush Mela)।
উপাসনা পর্বে পৌষ উৎসবের গুরুত্ব, ব্রাহ্ম ভাবধারা ও শান্তিনিকেতনের (Santiniketan Poush Mela) সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের (Visva Bharati) উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন, জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।
মেলার সময়সূচি

এ বছর ৬ দিন ধরে চলবে পৌষমেলা, শেষ হবে ২৮ ডিসেম্বর। মেলার মাঠজুড়ে বসেছে প্রায় ১৩৫০টি স্টল। গ্রামবাংলার শিল্পকলার নিদর্শন মাটির সামগ্রী, কাঁথা স্টিচের পোশাক, ডোকরা শিল্প, শান্তিনিকেতনের (Santiniketan Poush Mela) ঐতিহ্যবাহী ব্যাগ ও হস্তশিল্পের নানা সম্ভার নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের। পাশাপাশি শিক্ষা ভবন, কলাভবন, রবীন্দ্র ভবন, চিনা ভবন ও ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেল-সহ একাধিক বিভাগ আয়োজন করেছে বিশেষ প্রদর্শনীর।
ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগমে শান্তিনিকেতন (Santiniketan Poush Mela) যেন আরও একবার মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর উৎসবের আনন্দে।

