Denmark end letter delivery
Bengal liberty Desk, ৩১ ডিসেম্বর, কলকাতা: “কাগজের বুকের ভেতর লুকিয়ে ছিল কত কথা, /ডাকপিয়নের ব্যাগে ভর

করে যেত মন আজ সে পথও নীরব…” ইন্টারনেটের (Internet) অদম্য গতির সামনে ধীরে ধীরে হার মানল কাগুজে আবেগ (Letter)। ই-মেল (Email), মেসেজ (Massege), হোয়াট্সঅ্যাপের (Whatsapp) যুগে দাঁড়িয়ে চিঠি আজ প্রবীণ নাগরিক। সেই বাস্তবতাকে মেনেই এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল ডেনমার্ক (Denmark end letter delivery)। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ডাকযোগে চিঠি পাঠানোর পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিল তারা (Denmark end letter delivery)। এই বছরের শেষেই পৌঁছে গেল দেশের শেষ চিঠিটি-নিঃশব্দে, অথচ গভীর আবেগে ভরা এক বিদায়বার্তা হয়ে (Denmark end letter delivery)।
ডেনমার্কের (Denmark end letter delivery) প্রাচীনতম সরকারি পরিষেবাগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল এই ডাকব্যবস্থা (Postal system)। ১৬২৪ সালে যার যাত্রা শুরু, সেই ব্যবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটল ৪০১ বছর পরে। মঙ্গলবার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পোস্টনর্ড (PostNord) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়, চিঠি বিতরণ বন্ধ করা হল। কারণ একটাই ডেনমার্কের মানুষ এখন পুরোপুরি ডিজিটাল যোগাযোগের উপর নির্ভরশীল। বাস্তবতার নিরিখে চিঠির আর জায়গা নেই (Denmark end letter delivery)।
ডিজিটালের জয়, খামের বিদায় (Denmark end letter delivery)

সে দেশের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, মঙ্গলবারই শেষ চিঠি পাঠিয়ে ডাকব্যবস্থার ইতি টেনেছে ডেনমার্ক (Denmark end letter delivery)। পোস্টনর্ডের বক্তব্য স্পষ্ট-পার্সেল ডেলিভারি ছাড়া ডাকব্যবস্থার উপর আর ভরসা রাখছেন না নাগরিকেরা। প্রিয়জনকে চিঠি লেখা বন্ধ, অফিস-কাছারির নথিপত্রও এখন একান্তভাবে ইন্টারনেট নির্ভর। ফলে একটি সরকারি পরিষেবা শুধুমাত্র ঐতিহ্যের খাতিরে চালিয়ে যাওয়ার যুক্তি নেই (Denmark end letter delivery)।
‘একটি অধ্যায় শেষ, আর একটি শুরু’ (Denmark end letter delivery)
এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলেই চিহ্নিত করেছেন পোস্টনর্ডের প্রধান নির্বাহী কিম পেডারসেন। তাঁর কথায়, “একটি অধ্যায় শেষ হল। আর একটি অধ্যায় শুরু হবে।” চিঠি বিতরণের পরিবর্তে ই-কমার্স নির্ভর পার্সেল পরিষেবায় জোর দেওয়ার দিকেই এগোচ্ছে সংস্থা। কিম বলেন, “আমরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চিঠি বিতরণ করেছি। কিন্তু আজ ডেনমার্কের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পার্সেল পরিষেবা। কারণ, পার্সেলের সংখ্যা এখন চিঠির তুলনায় অনেক বেশি।”
পরিসংখ্যানেই লেখা বিদায়ের গল্প (Denmark end letter delivery)

ডেনমার্কের সরকারি মহলের দাবি, ডিজিটালাইজ়েশনের যুগে (The era of digitalization) বিশ্ব দ্রুত বদলাচ্ছে। ডিজিটাল মেলবক্স, মোবাইল পেমেন্ট ও অনলাইন পরিষেবার ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সেখানে খাম আর স্ট্যাম্প হয়ে উঠেছে অতীতের স্মারক। পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৫ বছরে ডেনমার্কে (Denmark end letter delivery) চিঠির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৯০ শতাংশ। ২০০০ সালের পর থেকেই চিঠি লেখা ও পাঠানোর প্রবণতা ক্রমশ কমছিল। তার ফলেই সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পোস্টনর্ডকে টানতে হচ্ছিল আর্থিক লোকসানের বোঝা (Denmark end letter delivery)।
ডিজিটাল যুগের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আজ ডেনমার্কে চিঠি শুধু স্মৃতি-কাগজে লেখা সেই অনুভূতি, যা একদিন মানুষের মন ছুঁয়ে যেত, আজ ইতিহাসের পাতায় আবদ্ধ (Denmark end letter delivery)।
