HC on BJP Nabanna dharna
Bengal liberty Desk, ১৫ জানুয়ারি, কলকাতা: নবান্নের সামনে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর

প্রস্তাবিত নির্দিষ্ট জায়গায় নয়, মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডের কাছেই (HC order on BJP Nabanna Protest) (যা নবান্নর পিছনের দিকে) বিজেপি ধর্না কর্মসূচি সংগঠিত করতে পারবে, এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট (HC order on BJP Nabanna Protest)। বিজেপির পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক তথা শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের (HC order on BJP Nabanna Protest) করা মামলার প্রেক্ষিতে এমনই নির্দেশ বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের (HC order on BJP Nabanna Protest)।
রাজ্যের যুক্তি ছিল নবান্ন ‘হাইসিকিউরিটি জোন’ তাই সেখানে সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত রাজ্যের যুক্তিতেই সম্মতি দেন বিচারপতি। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি নবান্নের সামনে বিজেপির ধর্না অবস্থানের আঁচ আগে থেকেই টের পেয়ে ভয় পেয়েছে রাজ্য-প্রাশাসন?
রায়ের মূল কারণ ও নির্দেশিকা (HC order on BJP Nabanna Protest)-
নিরাপত্তাজনিত কারণ (HC order on BJP Nabanna Protest): পুলিশ কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল যে নবান্ন রাজ্য সচিবালয় এবং এটি একটি উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চল, যেখানে সাধারণত কোনও রাজনৈতিক সভা বা বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয় না। অতীতেও হাই কোর্ট এই এলাকায় বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি।
যান চলাচল ব্যাহত (HC order on BJP Nabanna Protest): পুলিশ আরও জানায় যে, নবান্ন একটি খুব ব্যস্ত এলাকা এবং এখানে বিক্ষোভের অনুমতি দিলে সাধারণ যান চলাচল ব্যাহত হবে, যা স্কুল ছাত্রছাত্রী, অফিস যাত্রী এবং সাধারণ মানুষের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করবে।
গঙ্গা সাগর মেলা (HC order on BJP Nabanna Protest): ১৬ই জানুয়ারি অর্থাৎ আগামীকাল গঙ্গাসাগর মেলার কারণে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী হাওড়া স্টেশন, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে এবং বিদ্যাসাগর সেতু দিয়ে যাতায়াত করবেন। এই সময়ে কোনও বিক্ষোভ জননিরাপত্তার জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
আইনি ব্যবস্থা (HC order on BJP Nabanna Protest): ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নবান্নের সামনের ওই এলাকায় বিধিনিষেধ জারি রয়েছে।
বিকল্প স্থানে অনুমতি (HC order on BJP Nabanna Protest): আদালত পুলিশের দেওয়া কারণগুলিকে ‘যুক্তিযুক্ত’ বলে মনে করে এবং নবান্নের পরিবর্তে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে একই দিনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত বিক্ষোভ করার অনুমতি দেয়।
কী কী শর্তাবলী (HC order on BJP Nabanna Protest)?
- আদালত এই অনুমতির সঙ্গে কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে।
- বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী বিধায়কের সংখ্যা ৫০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
- বিক্ষোভের জন্য কোনও মঞ্চ তৈরি হলে তা ১২ ফুট বাই ১৫ ফুটের বেশি বড় হতে পারবে না।
- বিক্ষোভের জেরে সাধারণ মানুষ বা যান চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।
- বিক্ষোভ চলাকালীন কোনো উস্কানিমূলক বা অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।
- কোনও মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং শব্দ দূষণ সংক্রান্ত নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
- অন্তত ১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও মোবাইল নম্বর পুলিশকে জানাতে হবে। যারা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করবেন
- বিক্ষোভ শেষ হওয়ার দু’ঘণ্টার মধ্যে অংশগ্রহণকারীদের সরে যেতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্থানটি পরিষ্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বেআইনি কাজের ক্ষেত্রে সমতার অধিকার দাবি করা যায় না। যদিও ইতিমধ্যেই ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর।

কিন্তু প্রশ্ন হল, শুধু নবান্ন (HC order on BJP Nabanna Protest) নয়, রাজভবনের সামনে জারি থাকে ১৪৪ ধারা (HC order on BJP Nabanna Protest)। পূর্বে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (HC order on BJP Nabanna Protest) রাজভবনের মেন গেটের সামনে ধর্নার অনুমতি দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট (HC order on BJP Nabanna Protest)। ভোট পরবর্তী হিংসায় ‘আক্রান্ত’দের নিয়ে রাজভবনের সামনে ধর্না দিতে চেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (HC order on BJP Nabanna Protest)। অথচ ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (HC order on BJP Nabanna Protest) নেতৃত্বে তৃণমূল রাজভবনের সামনে ৫ দিন ধর্না দেন। রাজভবনের সামনে ১৪৪ ধারা জারি (HC order on BJP Nabanna Protest) থাকা সত্ত্বেও সেখানে কীভাবে মঞ্চ বাঁধল তৃণমূল? শাসক দলকে অনুমতি দিলেও বিজেপিকে ওই জায়গায় ধর্নায় (HC order on BJP Nabanna Protest) বসার অনুমতি না দেওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই প্রেক্ষিতেই হাইকোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিলেন তিনি (HC order on BJP Nabanna Protest)।
