Indian Capital Dome
Bengal Liberty,সিদ্ধার্থ দে: কলকাতার আকাশে ‘অদৃশ্য’ বলয়: ভারতের নিজস্ব ‘ক্যাপিটাল ডোম’
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে ভারত এক বিশাল পদক্ষেপ নিতে চলেছে। সীমান্তে শত্রুদেশের ড্রোন বা মিসাইল হামলা রুখতে তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির মাল্টি-লেয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা ‘ক্যাপিটাল ডোম’। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং কৌশলগত এলাকাগুলোকে একটি অদৃশ্য নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় নিয়ে আসা।
প্রকল্পের গঠন ও তিন স্তরের নিরাপত্তা(Indian Capital Dome)
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ‘ক্যাপিটাল ডোম’ কোনো একটি সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা বলয়। এর কার্যপদ্ধতি সাজানো হয়েছে এইভাবে:
1. প্রথম ধাপ: কুইক রি-অ্যাকশন সারফেস টু এয়ার মিসাইল (QRSAM)। এটি খুব দ্রুত ধেয়ে আসা লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে সক্ষম।
2. দ্বিতীয় ধাপ: ভেরি লো রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। এটি মূলত স্বল্প উচ্চতায় থাকা শত্রু ড্রোন বা ছোট মিসাইল শনাক্ত করে আকাশেই ধ্বংস করবে।
3. তৃতীয় ধাপ: এয়ার টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম। এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে অত্যন্ত শক্তিশালী সেন্সর এবং অত্যাধুনিক ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ ব্যবস্থা।

কেন এই উদ্যোগ?
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সংঘর্ষের পর ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলে বড়সড় বদল আসে। চিন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান ড্রোন প্রযুক্তির মোকাবিলা করতে ভারত প্রথমে আমেরিকার কাছ থেকে শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স কেনার কথা ভেবেছিল। কিন্তু দেশের তৎকালীন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন এমন এক ব্যবস্থা যা হবে সম্পূর্ণ ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’। সেই ভাবনা থেকেই ভারতের তিনটি ল্যাবে এই ডোমের কাজ শুরু হয়।
একটি ছবির অনুপ্রেরণা ও বাস্তবায়নের গল্প
এই প্রকল্পের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে এক চমৎকার গল্প। ২০২১ সালে অরুণাচল প্রদেশের একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির এক পড়ুয়ার আঁকা ছবি ডিআরডিও (DRDO) বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছিল। সেই ছবিতে দেখা গিয়েছিল, স্বয়ং ডঃ এপিজে আব্দুল কালাম একদল তরুণ বিজ্ঞানীকে দেশের আকাশ সুরক্ষার নির্দেশ দিচ্ছেন। ঠিক যেন ‘মিশন মঙ্গল’ সিনেমার কোনো দৃশ্য! সেই খুদে পড়ুয়ার কল্পনাকেই বাস্তবে রূপ দিতে কোমর বেঁধে নামেন বিজ্ঞানীরা।
প্রথম গন্তব্য দিল্লি, পরবর্তী লক্ষ্য কলকাতা
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে দিল্লি থেকে। রাজধানীর ভিআইপি জোন এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে প্রথম পর্যায়ে সুরক্ষিত করা হবে। এরপরের ধাপেই নজর ঘোরানো হবে পূর্ব ভারতের দিকে। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে এই সুরক্ষার ছাদ বসানো হবে। পশ্চিমবঙ্গও বাদ যাচ্ছে না— উত্তরবঙ্গ এবং বিশেষ করে কলকাতা শহরকে এই ডোমের আওতায় আনা হবে।
শত্রুর ড্রোন বা যে কোনো স্বল্পমাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র আসার আগেই এই সিস্টেমের সেন্সর তা ধরে ফেলবে এবং আকাশেই তাকে ধ্বংস করে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। ইজরায়েলি আয়রন ডোম যেভাবে বছরের ৩৬৫ দিন ইজরায়েলকে রক্ষা করে, ভারতের এই ‘ক্যাপিটাল ডোম’ ঠিক সেই কাজই করবে ভারতের মাটির জন্য।

