Narayanagar Incident
Bengal Liberty, Kolkata:
তৃণমূল সরকারের গত ১৫ বছরের উন্নয়ন তুলে ধরতে নিজের বিধানসভা এলাকাতেই গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট (Trinamool MLA Suryakanta Atta)। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে (Midnapore Narayanganj incident) দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে দলেরই একাংশের ‘চোর-চোর’ স্লোগানের মুখে পড়ে মাঝপথেই অনুষ্ঠানস্থল ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত(Narayanagar Incident)
এদিন সকালে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ কর্মসূচি নিয়ে নারায়ণগড় ব্লকের ৬ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কসবা কমিউনিটি হলে (Kasbah Community Hall) হাজির হয়েছিলেন বিধায়ক। অভিযোগ, হঠাৎ তাঁকে ঘিরে একদল যুবক স্লোগান দিতে শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের ভিড়েই দেখা যায় তৃণমূলের পতাকা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আর বক্তব্য না রেখে গাড়িতে করে ফিরে যান সূর্যকান্ত অট্ট।
বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকা তৃণমূলের অঞ্চল যুব সভাপতি শেখ বাপির অভিযোগ, বিধায়ক ভোটারদের অপমান করেছেন। তাঁর দাবি, একসময় প্রকাশ্যে কসবা এলাকাকে ‘গোয়ালঘর’ এবং ভোটারদের ‘গরু’ বলে মন্তব্য করেছিলেন বিধায়ক। বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, ২০২১ সালে বিধায়ক হওয়ার পর দীর্ঘদিন এলাকায় দেখা যায়নি সূর্যকান্ত অট্টকে। ভোটের মুখে ফের এলাকায় আসতেই ক্ষোভ উগরে দেয় দলীয় কর্মীরা। তাঁদের দাবি, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁকে যেন আর টিকিট না দেওয়া হয়।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট। তাঁর বক্তব্য, “কয়েকজন চিৎকার-চেঁচামেচি করেছে। দলের কেউ এর সঙ্গে যুক্ত নন। যারা টাকা কামাতে পারছে না, তারাই এসব করছে।”

বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের ট্যুইট(Narayanagar Incident)
এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দেন কেন্দ্রীয় নেতা তথা সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের (BJP MP Sukant Majumdar)। ঘটনার ভিডিও পোস্ট করে ট্যুইটে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে মফস্বল ও শহর, সর্বত্র যেভাবে তৃণমূলের ছোট-বড় নেতারা লুটপাট ও দুর্নীতির নতুন নতুন নজির গড়ে চলেছেন, তাতে আজ তৃণমূলের সাধারণ সমর্থকরাও গভীর শঙ্কার পরিবেশে রয়েছেন! প্রতিদিনই যেন আগের দিনের চুরির ‘রেকর্ড’ ভেঙে নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে।” তিনি শাসক দলকে কটাক্ষ করেন বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগেই যেভাবে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকরাই নিজেদের দলের জনপ্রতিনিধিদের প্রকাশ্যে চিহ্নিত করছেন, এর ফলে দুর্নীতির ভারে আজ শাসকদলের ভিতই ভেঙে পড়ছে। তাঁর দাবি, খুব শীঘ্রই এই প্রতিবাদ রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।

