Zubeen Garg Death
Bengal Liberty, পৌলমী গোস্বামী, Kolkata:
প্রয়াত গায়ক জুবিন গর্গের মৃত্যু(Zubeen Garg Death) ঘিরে রহস্য এখনও কাটেনি। সিঙ্গাপুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হলেও, সেই ঘটনার তদন্তের আজও কোনোও সুরাহা হয়নি। তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে এ বার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি লিখল জুবিনের পরিবার।
সিঙ্গাপুর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, গায়কের মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ নেই। তবে পরিবার ও অনুরাগীদের একাংশ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি গুয়াহাটিতেও আলাদা করে তদন্ত চলছে। এছাড়াও গঠিত হয়েছিল একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। তবু এখনও তদন্তে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি এমনটাই জানা যাচ্ছে পরিবারের তরফ থেকে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে মৃত্যু হয় জুবিন গর্গের(Zubeen Garg Death)
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশ জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। গুয়াহাটিতে শেষবারের মতো গায়কের দর্শন পেতে মানুষের ঢল নামে। হাজারো হাজারো মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে গেছিল তার মৃত্যুর খবর শুনে এবার সেই আবেগের কথাই প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে তুলে ধরেছে পরিবার। অসমের সংস্কৃতি ও সঙ্গীত জগতে জুবিন গর্গ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা উল্লেখ করে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
পরিবারের কি অভিযোগ?
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মামলা ও তদন্ত চললেও সুবিচারের পথ এখনও অনেক দূর। ঘটনায় জুবিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ব্যান্ডের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হলেও তদন্তের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো নয়। তাই চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের যেন জামিন না দেওয়া হয়।
এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন জুবিনের স্ত্রী গরিমা শঈকীয়া, বোন পালমী বরঠাকুর এবং কাকু মনোজ বরঠাকুর। তাঁদের বক্তব্য, শুধু পরিবার নয় অসংখ্য অনুরাগীও সত্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়া যাতে দ্রুত এগোয়, তার জন্য প্রয়োজনে অতিরিক্ত আইনজীবী নিয়োগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

তদন্তে কি উঠে এসেছে?
এদিকে, কিছুদিন আগে সিঙ্গাপুরের এক তদন্তকারী আধিকারিক দাবি করেন, ঘটনার সময় জুবিন গর্গ গুরুতরভাবে নেশাগ্রস্ত ছিলেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, সাঁতার কাটার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অচেতন অবস্থায় ইয়ট পর্যন্ত পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সব মিলিয়ে, জুবিন গর্গের মৃত্যুকে ঘিরে ধোঁয়াশা কাটাতেই কেন্দ্রীয় সরকারের সক্রিয় হস্তক্ষেপই চাইছে তাঁর পরিবার।

