Supreme Court order
Bengal Liberty Desk:
সমাজমাধ্যমে রাজনৈতিক সমালোচনা(Supreme Court order) করলেই গ্রেফতার বা হেনস্থা—এই প্রবণতার বিরুদ্ধে তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। তেলঙ্গানা হাই কোর্টের একটি নির্দেশ বহাল রেখে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানাল, শুধুমাত্র কোনও অভিযোগ দায়ের হলেই পুলিশ ‘যান্ত্রিক’ ভাবে পদক্ষেপ করতে পারবে না। আগে খতিয়ে দেখতে হবে, অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি আছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট পোস্ট বাক্স্বাধীনতার পরিসরের মধ্যে পড়ে কি না।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সমাজমাধ্যমে রাজনৈতিক(Supreme Court order) মতপ্রকাশ গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রশাসনকে ‘অতিসক্রিয়তা’ থেকে দূরে থেকে সংযম দেখানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলেই গ্রেফতার নয়—সময় নিয়ে তদন্ত করাই পুলিশের দায়িত্ব বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্য(Supreme Court order)
গত দেড় দশকে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক ঘটনায় সমাজমাধ্যমের(Supreme Court order) পোস্টকে কেন্দ্র করে শাসকের রোষে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। বাম জমানায় সমাজমাধ্যমের বিস্তার না থাকায় সে সময় এই ধরনের অভিযোগ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ইস্যুতে সরব হয়েছে বিরোধী দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি।
২০১২ সালের এপ্রিল মাসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্রকে ফেসবুকে একটি ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ফরওয়ার্ড করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এক রাত লকআপে কাটিয়ে পরদিন আদালত থেকে জামিন পান তিনি। সেই মামলা টানতে হয়েছে দীর্ঘ ১১ বছর। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে মামলার নিষ্পত্তি হয়।
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়কে স্বাগত জানালেও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অম্বিকেশ। তাঁর কথায়,
“রায়কে স্বাগত জানাই, কিন্তু অভিজ্ঞতা বলছে—এই নির্দেশ আদৌ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।”
সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রেও নজির (Supreme Court order)
২০১৭ সালে ফেসবুকে বিদ্রূপাত্মক পোস্টের জেরে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অরুণাচল দত্ত চৌধুরীকে নিলম্বিত করেছিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সেই ঘটনাও রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রসঙ্গে অরুণাচলের মন্তব্য,
“এটাই তো হওয়া উচিত। আমার বক্তব্য ভুল মনে হলে তার পাল্টা যুক্তি আসুক। সরকার কেন মুখ বন্ধ করতে যাবে?”
মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিক্রিয়া (Supreme Court order)
মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত শূরের মতে,
“এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, অসম, উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে এই নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না, সেটাও সুপ্রিম কোর্টের নজরে রাখা জরুরি।”
সব মিলিয়ে, সমাজমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ও মানবাধিকার মহল। এখন দেখার, বাস্তবে প্রশাসনিক স্তরে এই নির্দেশ কতটা প্রতিফলিত হয়।
