Ramakrishna Jayanti controversy
Bengal Liberty, Kolkata: আজ, বৃহস্পতিবার শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের ১৯১তম জন্মতিথি পালিত হচ্ছে সর্বত্র (Ramakrishna Jayanti controversy)। সেই উপলক্ষে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী (PM X post) শ্রদ্ধা জানান শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবকে। অন্যদিকে সেই পোস্টকে কেন্দ্র করেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আসরে নামলেন (X post controversy)। সামনেই নির্বাচন, তাই বলাই বাহুল্য সমস্ত কিছু নখদর্পণে রাখতে চাইছেন শাসক নেত্রী, সেক্ষেত্রে বাদ গেল না প্রধানমন্ত্রীর এক্স পোস্টও (Ramakrishna Jayanti controversy)। পোস্ট এবং পাল্টা পোস্টকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি (Post vs Counterpost)। এক চুল অংশ ছাড়তে নারাজ শাসক ও বিরোধী দল। কিভাবে শুরু বিতর্কের?

এক্স পোস্ট ঘিরে শুরু বিতর্ক (Ramakrishna Jayanti controversy)
শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এক্স হ্যান্ডেলে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। তাঁর এক্স পোস্টে (Tweeter) তিনি লেখেন, “স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের জন্মজয়ন্তীতে জানাই শ্রদ্ধাভরা প্রণাম।” পাশাপাশি তিনি আরও লেখেন আধ্যাত্মিকতা ও সাধনাকে জীবনের মূল শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে মানবকল্যাণের যে পথ দেখিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ, তা যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর বাণী ও আদর্শ ভবিষ্যতেও সমাজকে পথ দেখাবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
स्वामी रामकृष्ण परमहंस जी को उनकी जन्म-जयंती पर आदरपूर्ण श्रद्धांजलि। उन्होंने अध्यात्म और साधना को जिस प्रकार जीवनशक्ति के रूप में स्थापित किया, वह हर युग में मानवता का कल्याण करता रहेगा। उनके सुविचार और संदेश सदैव प्रेरणापुंज बने रहेंगे।
— Narendra Modi (@narendramodi) February 19, 2026
এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা পোস্ট করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, বাংলার মনীষীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অবহেলা এবং অসংবেদনশীলতা আবারও প্রকাশ পেল। তবে, পোস্টের আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য।
মমতার ব্যাখ্যা, ‘স্বামী’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে আপত্তি (Ramakrishna Jayanti controversy)
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে দাবি করেন, যুগাবতার শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে প্রণাম জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নামের আগে ‘স্বামী’ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা তিনি অপ্রযোজ্য বলে মনে করেন। তাঁর বক্তব্য, বাঙালির কাছে রামকৃষ্ণ সর্বদা ‘ঠাকুর’ নামেই পূজিত।
Shocked again!
Yet again, our Prime Minister aggressively displays his cultural insensitivity to great figures of Bengal. Today is the janmatithi of Yugavatara (God’s incarnation in our age) Sri Sri Ramakrishna Paramahamsadeva. While trying to hail the great saint on this… https://t.co/f7GqFkbcHy
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) February 19, 2026
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রামকৃষ্ণের দেহাবসানের পর তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যরা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং সন্ন্যাসীদের নামের আগে ‘ উপাধি ব্যবহারের প্রচলন হয়। সেই সূত্রেই পবিত্র ত্রয়ী—ঠাকুর, মা এবং স্বামীজি, এই ধারায় প্রতিষ্ঠিত। এখানে মা হিসেবে পূজিত সারদা দেবী এবং স্বামীজি হিসেবে পরিচিত স্বামী বিবেকানন্দ (Ramakrishna Jayanti controversy)। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই ঐতিহ্য না জেনে বা গুরুত্ব না দিয়েই প্রধানমন্ত্রী শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচয় দেয়।

অমিত মালব্যের ব্যাখ্যা (Ramakrishna Jayanti controversy)
অমিত মালব্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, “আমরাও আপনার অজ্ঞতায় বিস্মিত। প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মহাসাধক শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবকে “স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসজি” বলে উল্লেখ করেছেন (Ramakrishna Jayanti controversy)। এখানে ‘স্বামী’ শব্দটি কেবল রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের উপাধি হিসেবে নয়, আধ্যাত্মিক অর্থে ‘মহান গুরু’ বোঝাতেই ব্যবহার করা হয়েছে।” এছাড়াও তিনি বলেন, রামকৃষ্ণের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার মূল ভিত্তি অদ্বৈত ভাবনা, মানুষ ও ঈশ্বরের ঐক্যের দর্শন, যা রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শের কেন্দ্রবিন্দু। এই অর্থেই ‘স্বামী’ শব্দটি মহান আধ্যাত্মিক আচার্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই বলা হয়েছে।
We are also shocked at your ignorance!
Prime Minister referred to Sri Sri Ramakrishna Paramahamsa Deva, also called Sri Ramakrishna and ‘Thakur’ by his disciples, as Swami Ramakrishna Paramahansa Ji while paying tribute to the universally respected great seer and saint of India… https://t.co/3YWpEFkYrp pic.twitter.com/AhpuwcJAxW
— Amit Malviya (@amitmalviya) February 19, 2026
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়াকে ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের নানা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা যেমন, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, প্রশাসনিক সংকট বা উন্নয়নের প্রশ্ন, এসব দিকে দৃষ্টি দিতে সময় হচ্ছেনা বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর। এপ্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বিরোধীরা বলেন, বাংলার বড় বড় ইস্যু ছেড়ে এখন মুখ্যমন্ত্রী বেশি মনোনিবেশ করছেন রাজ্যের বিরোধী দলের এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট বা বক্তব্যে।
