Trump Iran War Powers Vote
Bengal Liberty Desk, ২১ ফেব্রুয়ারি: শুল্কনীতি নিয়ে এবার বড় ধাক্কা খেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump Tariff Policy Verdict)। গতকাল, শুক্রবার তাঁর শুল্কনীতি সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অপ্রত্যাশিত রায় দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট (US Supreme Court)। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পদে বসে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া আন্তর্জাতিক স্তরে ইচ্ছেমতো নতুন শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা তাঁর নেই। আদালতের মতে, ট্রাম্প যা করেছেন তা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই রায়ের প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে পড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে- এতদিন ট্রাম্পের শুল্কনীতির ফলে যে পরিবর্তন এসেছে কিংবা সেই ভিত্তিতে যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, সেগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে (Trump Tariff Policy Verdict)।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ (Trump Tariff Policy Verdict)
শুক্রবার প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের (Chief Justice John Roberts) নেতৃত্বাধীন নজন বিচারপতির বেঞ্চ ট্রাম্পের শুল্কনীতির বৈধতা খতিয়ে দেখে। ভোটাভুটিতে ফল দাঁড়ায় ৬-৩, অর্থাৎ শুল্কনীতির বিরুদ্ধেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মত পড়ে (Trump Tariff Policy Verdict)।
এরপর প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে জানান, জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া একক সিদ্ধান্তে আমদানির উপর বিপুল অঙ্কের শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন ট্রাম্প (Trump Tariff Policy Verdict)।
বিচারপতিরা রায়ে ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল এমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA)-এর প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, এই আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে এককভাবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয় না, বিশেষ করে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে। কোন দেশ থেকে আমদানি করা কোন পণ্যে কত শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে, সে সিদ্ধান্ত একা প্রেসিডেন্ট নিতে পারেন না, এতে মার্কিন কংগ্রেসের ভূমিকা অপরিহার্য। এই রায়ের ফলে আমদানিকারকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনকে বলেও মনে করা হচ্ছে (Trump Tariff Policy Verdict)।
আরও পড়ুন (Trump Tariff Policy Verdict)
বাণিজ্য-সমঝোতার পর নতুন বার্তা, (Trump administration shared a map of India) ভারতের মানচিত্র প্রকাশ করে ইঙ্গিত ট্রাম্প প্রশাসনের
এবার ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলেই গুনতে হবে মাশুল! (Trump announces 25 percent tariffs On Iran trade) তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা ট্রাম্পের
চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন (Trump Tariff Policy Verdict)
এই রায়ের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া একাধিক বাণিজ্য চুক্তি এখন প্রশ্নের মুখে। ভারতের মতো দেশ, যারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘ দর কষাকষির পর চুক্তিতে সই করেছে, তারা আদৌ কোনও সুবিধা পাবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। আরও একটি বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে রাজনৈতিক মহলেও। ট্রাম্পের আগ্রাসী ও একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবের প্রেক্ষিতে, তিনি কি সহজে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় মেনে নেবেন? নাকি নতুন করে সংবিধান সংশোধনের পথে হেঁটে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন (Trump Tariff Policy Verdict)?
