Iran Boycott FIFA World Cup 2026
Bengal Liberty Desk, ১২ মার্চ: পশ্চিম এশিয়ায় লাগাতার যুদ্ধ চলছে তো চলছেই। দিনে দিনে তা আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। ইউএস বেস ক্যাম্পগুলিতে লাগাতার হামলা, তার সঙ্গে ফ্লাইটের সমস্যা। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় আটকে আছে তেলবাহী জাহাজ ও সামগ্রী। আকাশছোঁয়া গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। এই সবের মধ্যেই নয়া চাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Iran Boycott FIFA World Cup 2026)।

চলতি বছরেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে “দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ” ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে জমজমাট ফুটবল যুদ্ধ। আয়োজক দেশ হিসেবে কানাডা, মেক্সিকোর পাশাপাশি রয়েছে আমেরিকা। এমনকি ফাইনাল ম্যাচও খেলা হবে নিউ ইয়র্ক শহরের মেট লাইফ স্টেডিয়ামে।
যুদ্ধের আবহের মধ্যেই ইরান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের ফুটবল দল আমেরিকায় গিয়ে কোনও ম্যাচ খেলবে না। দরকার পড়লে বিশ্বকাপ বয়কট করবে ইরান। রক্তের হোলি আর খেলা কখনই একসঙ্গে চলতে পারে না। কিন্তু হঠাৎ করেই গল্পে এলো নয়া মোড়।
চারিদিকে মৃত্যুর খবর বাদ নেই ভারতীয়ও (Iran Boycott FIFA World Cup 2026)!
যুদ্ধের মধ্যেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা বাদ নেই ভারতও। ওমান উপকূলের কাছে এমকেদি ভিহুম নামক তেল একটি ট্যাংকরে জোর দার হামলা হয়েছে সেখানেই মৃত্যু হয়েছে এক ভারতীয় নাবিকের। এই মুহূর্তে হড়মুজ প্রণালীতে ভারতের ৩৬ টা জাহাজ আটকে আছে কবে ছাড়া পাবে তাই নিয়ে চিন্তায় মাথায় বাজ।
ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা (Iran Boycott FIFA World Cup 2026)-

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানের ফুটবল দল যদি আমেরিকায় এসে বিশ্বকাপ খেলতে চায়, তাহলে তাঁদের স্বাগত জানানো হবে। যুদ্ধ আর খেলা দুই ভিন্ন বিষয়—এই দুই জিনিসকে এক করে দেখতে চান না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এই আহ্বানের পরেও ইরান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছে।
ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ–জি তে রয়েছে ইরান। তাঁদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী বেলজিয়াম মিশর ও নিউজিল্যান্ড। ইরানের তিনটি ম্যাচ আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যালিফোর্নিয়া তে খেলার কথা।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—হঠাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন ইরানকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানাচ্ছেন? এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে? আসুন একটু খতিয়ে দেখা যাক।
জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন ট্রাম্প (Iran Boycott FIFA World Cup 2026)!
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে হামলার পরপরই আমেরিকার একাধিক জায়গায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। অনেক তরুণ ছেলে-মেয়ের হাতে ইরানের পতাকাও দেখা গিয়েছে। এমনকি ৪১৫ দিনের মাথায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেশ খানিকটা কমেছে। এখন গত সপ্তাহের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট জনপ্রিয়তা কমে ৫৬ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। সেই কারণেই কি ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টায় নেমেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
কেন আমেরিকা লড়ছে এই যুদ্ধ?
আমেরিকার অযথা যুদ্ধে জড়ানো নতুন কিছু নয়। নিজেদের মাটিতে আজ পর্যন্ত যুদ্ধ হয়নি কিন্তু অনেক দেশকেই যুদ্ধে জড়িয়েছে ইউএসএ। যেমন ভিয়েতনাম ওয়ার। কেন হয়েছিল সেই যুদ্ধ? কেন ২০ বছর ধরে যুদ্ধ জিইয়ে রেখেছিল আমেরিকা?
ভিয়েতনামের স্মৃতি এখনো ধগদগে তাজা (Iran Boycott FIFA World Cup 2026)!
লিন্ডন বি. জনসন, জন এফ. কেনেডি এবং পরে রিচার্ড নিক্সন এই সময়কালে ছোট শিশু থেকে শুরু করে পুরুষ, মহিলা কাউকেই রেহাই দেওয়া হয়নি। উপর থেকে ন্যাপাম বোমা ফেলা হতো, জ্বালিয়ে দেওয়া হতো গ্রামকে গ্রাম। এমনকি খুন ও ধর্ষণের অভিযোগও উঠেছে। এখনও সেই যুদ্ধের ক্ষত ভিয়েতনামের মানুষ খুব ভালোই টের পায়।
তার সঙ্গে যেকোনো যুদ্ধে অযথা নাক গলানোর অভিযোগও রয়েছে আমেরিকার বিরুদ্ধে। তা সে ভারত–পাকিস্তান হোক কিংবা চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সব জায়গাতেই শান্তির দূত হওয়ার চেষ্টা করেছে ট্রাম্প।
আরও পড়ুন-
Ali Khamenei death 2026: এক হামলায় মৃত খামেনেই, “পিকচার আভি বাকি হে!” – মত ডোনাল্ড ট্রাম্পের, হারতে নারাজ ইরানও, আরও বড় যুদ্ধের ইঙ্গিত?
Mojtaba Khamenei Iran Supreme Leader: ইরানের সুপ্রিম লিডার ভ্যানিশ! গা ঢাকা দিয়েছেন নাকি নেপথ্যে অন্য ষড়যন্ত্র?

কিছু মানুষের দাবি, যেকোনো মুহূর্তেই ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। কারণ ইরান যে সমানে সমানে লড়াই চালাবে, তা বুঝতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কৌশল কোনওভাবেই সফল হচ্ছে না। সেই কারণেই কি ইরানের সঙ্গে বরফ গলাতে বিশ্বকাপে খেলার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প?
শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ জয়ী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা বিশ্বের।
