IPAC arrest case
Bengal Liberty, Kolkata :
নির্বাচনের আবহে আই-প্যাককে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে জোরদার হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্ত IPAC arrest case। একের পর এক তলব ও গ্রেফতারির মধ্যেই এবার ইডি-র নজরে এল সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের পরিবার। ব্যাঙ্ক লেনদেন ও সম্ভাব্য হাওয়ালা যোগ খতিয়ে দেখতে তাঁর স্ত্রী বার্বি জৈন ও ভাই পুলকিত জৈনকে তলব করা হয়েছে। ফলে এই মামলা ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, আই-প্যাকের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং ফান্ডিং প্যাটার্ন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের টাকার উৎস, তা কোন পথে সংস্থার কাছে এসেছে এবং কীভাবে তা ব্যবহার করা হয়েছে এই বিষয়গুলিই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, কিছু লেনদেন নিয়মবহির্ভূত এবং তা হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে। উল্লেখ্য প্রতীক জৈন সরাসরি হাজিরা না দেওয়ায় তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহে জোর দিচ্ছে ইডি। সেই সূত্রেই তাঁর স্ত্রী ও ভাইকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের ব্যক্তিগত ও যৌথ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং আই-প্যাকের সঙ্গে আর্থিক সংযোগ খতিয়ে দেখা হতে পারে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, এই লেনদেনগুলির সঙ্গে সংস্থার কার্যকলাপের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না।

ভিনেশ চান্ডেল গ্রেফতারের পর তদন্তে গতি IPAC arrest case
সম্প্রতি আই-প্যাকের সঙ্গে যুক্ত ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতার করেছে ইডি। অভিযোগ, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং হাওয়ালা সংযোগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর গ্রেফতারের পর তদন্তকারীরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য হাতে পেয়েছেন বলে দাবি, যা এই মামলার বিস্তার ঘটাতে সাহায্য করেছে। এর জেরেই প্রতীক জৈনের পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে।
৯ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে বড় প্রশ্ন IPAC arrest case
তদন্তে উঠে এসেছে, হায়দ্রাবাদের একটি নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ৯ কোটি টাকা আই-প্যাকের হাতে পৌঁছেছে। এই বিপুল অর্থের লেনদেনের উদ্দেশ্য, বৈধতা এবং উৎস নিয়েই প্রশ্ন তুলছে ইডি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এই অর্থ সরাসরি নির্বাচনী কার্যকলাপ বা প্রচারে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি, হাওয়ালা রুট ব্যবহার করে এই টাকা স্থানান্তরিত হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতীক জৈনের আইনি অবস্থান
গত ২ এপ্রিল প্রতীক জৈনকে দিল্লিতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। তবে তিনি দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে বলেন, নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি কলকাতাতেই জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিতে চান। তাঁর এই আবেদন এখনও বিচারাধীন রয়েছে। আদালত তদন্তে কোনও স্থগিতাদেশ না দেওয়ায়, ইডি তাদের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং বিকল্পভাবে পরিবারের সদস্যদের তলব করেছে। ইতিমধ্যে এই তদন্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিরোধীদের একাংশের দাবি, আই-প্যাকের মতো সংস্থার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অন্যদিকে শাসকদলের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে, ভোটের আগে এই ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিরোধীদের চাপে ফেলতেই এই অভিযান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে আসা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আই-প্যাক ও প্রতীক জৈনকে ঘিরে এই তদন্ত এখন শুধু আইনি বা প্রশাসনিক ইস্যু নয়, বরং তা রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
