IAS IPS transfer case
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে IAS ও IPS অফিসারদের বদলি নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতায় আপাতত হস্তক্ষেপ করতে রাজি হল না দেশের শীর্ষ আদালত IAS IPS transfer case। কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

মামলা খারিজ কোলকাতা হাইকোর্টে IAS IPS transfer case
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের প্রাক্কালে প্রশাসনের একাধিক IAS ও IPS অফিসারের বদলি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে মামলা ওঠে কোলকাতা হাইকোর্টে। গত ৩১ মার্চ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে এমন বদলি নতুন কিছু নয় এবং এতে আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। হাইকোর্ট আরও জানায়, নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলি বা রদবদল করতে পারে। এটি কমিশনের ক্ষমতার মধ্যেই পড়ে। ফলে এই বিষয়ে আদালতের সরাসরি হস্তক্ষেপ করার কোনও কারণ দেখছে না আদালত।
আরও পড়ুন – ভোটের দু’ দিন আগেও ট্রাইব্যুনালের ছাড়পত্র পেলেই ভোট দেওয়ার অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের
মামলায় হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট
হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূলের তরফে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর যুক্তি ছিল, নির্বাচনের ঠিক আগে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ অফিসারদের বদলি করা হলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্মে প্রভাব পড়তে পারে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। তবে মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে থাকা বিচারপতি CJI সূর্যকান্ত মন্তব্য করেন, “যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁরা তো পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের অফিসার, তাহলে পক্ষপাতের অভিযোগ কেন? সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ হল আদালতকে SIR প্রক্রিয়ায় বিচারকদের নিয়োগ করতে হয়েছে। কারণ, আস্থার ঘাটতি দুই পক্ষের মধ্যেই রয়েছে।
কমিশনের রাজ্য প্রশাসনের উপর আস্থা নেই, আবার রাজ্যেরও কমিশনের উপর পূর্ণ ভরসা নেই।” আদালতের এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছে না শীর্ষ আদালত। ফলে আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের রায়ই বহাল থাকল। ভোটের আগে প্রশাসনিক স্তরে IAS-IPS অফিসারদের বদলি নিয়ে যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল, তাতে নতুন করে কোনও নির্দেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক বদলি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হলেও আদালতের এই অবস্থান থেকে পরিষ্কার, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসকে সাধারণ প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
