TMC MLA quits
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি TMC MLA quits। ঠিক তার আগেই মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে বড়সড় চমক। বুধবার রাতে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার ঘোষণা করলেন জলঙ্গির বিদায়ী বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল। টিকিট না পাওয়াকে কেন্দ্র করেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

দল ত্যাগ বিদায়ী তৃণমূল বিধায়কের TMC MLA quits
দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকা আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল এবার দলের প্রার্থী তালিকায় নিজের নাম না দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, দলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতার আধিপত্যের কারণে প্রকৃত কর্মীরা গুরুত্ব পাচ্ছেন না। বিশেষ করে রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি।
রাজ্জাক মণ্ডলের দাবি, সৌমিক হোসেন ডোমকল এলাকায় নিজেকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। সেই কারণেই বেলডাঙ্গা থেকে বাবর আলি এবং ডেবরা থেকে হুমায়ুন কবীরকে জলঙ্গি সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে। যদি তারা জিতেও যায়, তাহলে তারা এখানে থাকবে না। এর মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক শক্তি এবং নেতাগিরি কায়েম করতে চাইছেন বলেও অভিযোগ করেন রাজ্জাক।

তিনটি আসনেই হারবে তৃণমূল
আসন্ন নির্বাচনে ডোমকল মহকুমার ডোমকল, জলঙ্গি, রাণীনগর এই তিন আসনেই তৃণমূল প্রার্থীদের পরাজয় হবে বলে জানান বিদায়ী বিধায়ক। আর এই পরাজয়ের দায় ভবিষ্যতে তার উপর চাপানো হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তার কথায়, “আমার দুঃখ একটাই, দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েকদিন আগে জলঙ্গির সাদিখাঁরদিয়াড়ে অনুষ্ঠিত জনসভায় বলেছেন, আমার নামে অস্বচ্ছতার অভিযোগ রয়েছে, সেই কারণে আমাকে টিকিট দেওয়া হয়নি। এই মন্তব্য আমার ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনকে কলুষিত করেছে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কারা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করল এবং কেন কোনও আলোচনা ছাড়াই তাঁকে বদনাম করা হল। এই পরিস্থিতি মেনে নিতে না পেরে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। শুধু তাই নয়, ডোমকল মহকুমার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। রাজ্জাক মণ্ডলের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। যদিও পালটা সৌমিক হোসেন জানান, “টিকিট দেওয়ার আমি কেউ নই, উনি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এরকম বলছেন।”
ভোটের আগে একজন বিদায়ী বিধায়কের এই পদত্যাগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নির্বাচনের ঠিক আগে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতার এই ধরনের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের সংগঠনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের। এদিকে রাজ্জাক মণ্ডল ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন, তা এখনও স্পষ্ট করেননি। তবে তাঁর এই পদক্ষেপ মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে। ভোটের মুখে এই ঘটনায় তৃণমূল শিবিরে অস্বস্তি বাড়লেও বিরোধীরা বিষয়টিকে বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেছে। এখন দেখার, নির্বাচনের আগে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।
