Falta bjp win
Bengal liberty desk, 24 মে,ফলতা:
ভাঙল তৃণমূলের শেষ দুর্গ, চুরমার হলো তথাকথিত ‘ডায়মন্ড মডেল’। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফলে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন ইতিহাস (Falta bjp win)। প্রায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে ফলতায় পদ্ম ফোটালেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা।

ফলতার ফলাফল
১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। মোট ভোটের ৭১.২% তাঁর দখলে। দ্বিতীয় স্থানে ৪০ হাজার ৬৪৫ ভোট পেয়ে চমক দিয়েছেন সিপিএম এর শম্ভুনাথ কুড়মি। আর ১০ হাজার ৮৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে কংগ্রেস এর আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা।
অন্যদিকে শাসকদলের সব থেকে বড় বিপর্যয় ঘটিয়ে মাত্র ৭৭৮৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান।

কেন উল্টে গেল ফলতার সমীকরণ?
এক সময় যে ফলতাকে তৃণমূলের ‘আঁতুড়ঘর’ বলা হতো, সেখানে এই ধসের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ দেখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি ও ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারায় এবার ফলতার মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মতে, “১৫ বছর পর মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা পেল, তাই বাস্তব সামনে এল।”ভোটের আগেই তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান কার্যত ‘নিষ্ক্রিয়’ হয়ে পড়েছিলেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের থেকে সাহায্য না পেয়ে লড়াই থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেয়। ফলতায় প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোট। এবারের ফলে দেখা যাচ্ছে, সংখ্যালঘু ভোট আর তৃণমূলের দিকে এককাট্টা নেই। তারা তৃণমূলের বিকল্প হিসেবে সিপিএম-এর ওপর ভরসা রেখেছে, যার ফলে বামেরা দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে ৭১ শতাংশের বেশি ভোট প্রমাণ করে যে, সংখ্যাগুরু ভোটাররা এবার একতরফা ভাবে পদ্ম শিবিরকেই বেছে নিয়েছেন।

পুষ্পারাজের অবসান:
একদা ডায়মন্ড হারবার অঞ্চলে তৃণমূলের যে দাপট ছিল, তাকেই ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ বলে প্রচার করা হতো। বিরোধীদের দাবি, আজ ফলতার মানুষ ইভিএমে সেই মডেলকেই ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছেন। তৃণমূল প্রার্থীর জামানত জব্দ হওয়া শাসকদলের জন্য সবথেকে বড় লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজেপি শিবিরের দাবি, এটি কেবল একটি কেন্দ্রের জয় নয়, এটি বাংলায় পরিবর্তনের নতুন জোয়ার। ফলতার এই রায় আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

